রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের দাবিতে ফের সরব হল ভারত। দিল্লির বক্তব্য, নতুন কোনও দেশকে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য করা হলে, ভেটো ক্ষমতাও দিতে হবে। ভেটো ক্ষমতা ছাড়া নতুন স্থায়ী সদস্যের আলাদা একটি শ্রেণি তৈরি করা হলে, সেই দেশগুলি কার্যত ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ সদস্য হয়ে থাকবে। তাতে নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতায়ও কোনও মৌলিক পরিবর্তন হবে না।
রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পার্বথানেনি সোমবার একথা জানান। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে ভেটো ক্ষমতা নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি জানান, যতদিন নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ব্যবস্থা থাকবে, ততদিন পরিষদের সব স্থায়ী সদস্যেরই এই ক্ষমতা থাকা উচিত। তাঁর কথায়, ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক স্থায়ী সদস্যের সমান অধিকার ও দায়িত্ব থাকা প্রয়োজন।
বর্তমানে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে ৫টি দেশ স্থায়ী সদস্য। তারা হল আমেরিকা, ব্রিটেন, চিন, রাশিয়া ও ফ্রান্স। এই পাঁচ দেশের হাতেই রয়েছে ভেটো ক্ষমতা। এছাড়া ১০টি দেশকে দু’বছরের মেয়াদে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ভারতের বক্তব্য, শুধু অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে পরিষদের সংস্কার করা হলে তা যথেষ্ট হবে না। স্থায়ী সদস্যের সংখ্যাও বাড়াতে হবে।
হরিশ জানান, ভেটো ক্ষমতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সদস্যদের নিয়ে নতুন একটি শ্রেণি তৈরি করলে বৈষম্য দূর হওয়ার বদলে আরও বাড়বে। কারণ, বর্তমান ৫ স্থায়ী সদস্যই তখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখবেন। তাঁর মতে, স্থায়ী সদস্যপদের সঙ্গে সমান অধিকার না থাকলে সেই সদস্যপদের অর্থই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ব্যবহারের বিষয়েও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন হরিশ। তাঁর বক্তব্য, ভেটো ক্ষমতা অত্যন্ত সংযমের সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত। কোনও সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণের হাতিয়ার হিসেবে এই ক্ষমতা ব্যবহার করা ঠিক নয়।
দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে ভারত। দিল্লির বক্তব্য, ১৯৪৫ সালে তৈরি ১৫ সদস্যের এই পরিষদ বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা প্রতিফলিত করে না। এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার মতো অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব আরও বাড়ানো প্রয়োজন। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিদার হিসেবেও ভারত দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে আসছে।
হরিশ এদিন মনে করিয়ে দেন, ১৯৬৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য সংখ্যা একবার বাড়ানো হলেও শুধু অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা ৬ থেকে ১০ করা হয়েছিল। পাঁচ স্থায়ী সদস্যের সংখ্যা অপরিবর্তিত ছিল। ভারতের মতে, এই ধরনের সংস্কারে পরিষদের ক্ষমতার ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন আসে না।
আরও পড়ুন: ফ্লাইটে বসেই হাইজ্যাকের পরিকল্পনা, মাঝপথ থেকে ফিরল বিমান, গ্রেপ্তার ১
এদিকে, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের প্রশ্নে সম্প্রতি ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়াও। মস্কোর বক্তব্য, নতুন স্থায়ী সদস্য হিসেবে পশ্চিমের আর কোনও দেশের প্রয়োজন নেই। বরং এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো দরকার। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের দাবিতে আন্তর্জাতিক সমর্থনের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।