রাষ্ট্রসঙ্ঘে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি ভোটে বিরত থাকল ভারত

রাষ্ট্রসঙ্ঘে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে আনা প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত থাকল ভারত। মঙ্গলবার ‘সাপোর্ট ফর লাস্টিং পিস ইন ইউক্রেন’ শীর্ষক খসড়া প্রস্তাবটি পেশ করে ইউক্রেন, যেখানে দুই দেশের মধ্যে অবিলম্বে নিঃশর্ত ও সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়।

১৯৩ সদস্যের সাধারণ সভায় প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয় ১০৭টি দেশ, বিপক্ষে ১২টি এবং ৫১টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। বিরত থাকা দেশগুলির তালিকায় রয়েছে ভারত, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরবের মতো একাধিক ব্রিক্‌স সদস্য। আমেরিকাও ভোটাভুটিতে অংশ নেয়নি। তবে আমেরিকার ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ ইজরায়েল প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চার বছর ধরে চলছে। দু’দেশই ধারাবাহিক ভাবে একে অন্যের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। অতীতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ থামাতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট  ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির  সঙ্গে আলাদা বৈঠক করলেও দুই নেতাকে একসঙ্গে আলোচনায় বসাতে পারেননি।


মঙ্গলবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় ‘সাপোর্ট ফর লাস্টিং পিস ইন ইউক্রেন’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব পেশ হয়। দুই দেশের মধ্যে অবিলম্বে নিঃশর্ত এবং সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির দাবিতে ইউক্রেন ওই প্রস্তাব পেশ করে। কিন্তু ওই প্রস্তাবের পক্ষে ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করল না আমেরিকা। যদিও আমেরিকার অন্যতম ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ ইজরায়েল এই প্রস্তাবের পক্ষেই ভোট দিয়েছে।

যুদ্ধের প্রশ্নে ইউক্রেন বরাবরই ইউরোপীয় দেশগুলির কূটনৈতিক সমর্থন পেয়ে এসেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলেনি এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে কিয়েভের পক্ষে সরব হয়েছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে।

অন্যদিকে, রাশিয়া ব্রিক্‌স জোটের অন্যতম সদস্য হওয়ায় ভারত-সহ কয়েকটি দেশের ভোটদানে বিরত থাকা কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানও ভোটাভুটিতে অংশ নেয়নি। প্রস্তাবে ১০৭ দেশের সমর্থন পাওয়ার পর জেলেনস্কি সমাজমাধ্যমে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানো দেশগুলিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানো ১০৭টি দেশের প্রত্যেকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।‘