আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার ভাঙনকে স্বীকৃতি প্রদান ইজরায়েলের। ইজরায়েলই বিশ্বের প্রথম দেশ যে সোমালিয়া ভেঙে তৈরি হওয়া সোমালিল্যান্ডকে ‘স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র’ বলে মেনে নিল। প্রায় তিন দশক আগে সোমালিয়ার স্বাধীন সরকারকে অস্বীকার করে। সোমালিল্যান্ড প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৯১ সালে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে স্থাপনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে সোমালিল্যান্ড। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সোমালিয়া এবং সোমালিল্যান্ড দু’টিই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। তবুও সোমালিয়া থেকে নিজেকে স্বাধীন করতে এতো বছর ধরে চেষ্টা করে গিয়েছে সোমালিল্যান্ড। হঠাৎ করে তেল আভিভের এহেন পদক্ষেপের নিন্দা করে সোমালিয়া বলেছে, ‘এই ঘটনা আমাদের সার্বভৌমত্বের উপর বেআইনি আক্রমণ।’
যদিও সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে এতদিন মেনে নেয়নি অন্য কোনও রাষ্ট্র। ইজরায়েলই প্রথম রাষ্ট্র যে সোমালিল্যান্ডকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিল। পাশাপাশি ইজরায়েল তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করল। নেতানিয়াহুর দপ্তরের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজ সোমালিল্যান্ড প্রজাতন্ত্রকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ঘোষণা করলেন।’
অন্য দিকে, সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আব্দিরহমান মহম্মদ আব্দুল্লাহি তেল আভিভের স্বীকৃতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘এটি একটি কৌশলগত অংশীদারির সূচনা।’
সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার খবরে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ইজরায়েলের কূটনৈতিক বিচক্ষণতা দেখছেন। তাঁরা বলছেন, পশ্চিম এশিয়ায় শত্রুদের চাপে রাখতেই এ বার নেতানিয়াহু আফ্রিকায় এক মুসলিম দেশের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করতে চাইছে।