আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ না বুঝলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়বে, আমেরিকাকে বার্তা জয়শঙ্করের 

Image: IANS

নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির মঞ্চ থেকে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ হিসেবে সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ কোনও সহযোগী দেশ যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে না দেখলে তার প্রভাব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ ও অবস্থান বোঝা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের ৮১তম সাধারণ সভার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হয় সোমবার। নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন জয়শঙ্কর। সেখানে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাণিজ্য ও শুল্কের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। জয়শঙ্করের কথায়, বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনার গতি ও জটিলতা ইতিমধ্যেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছু ‘বাধা-বিপত্তি’ তৈরি করেছে। তার সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগও সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জয়শঙ্কর সরাসরি পাকিস্তানের নাম না করে বলেন, ‘খুব কম দেশই রয়েছে, যারা বহু দশক ধরে প্রতিবেশী দেশের পরিকল্পিত নীতির কারণে সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছে।’ তাঁর বক্তব্য, ভারতের কাছে সন্ত্রাসবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এই বিষয়ে সহযোগী দেশ যথেষ্ট বোঝাপড়া বা সহমর্মিতা না দেখালে তার প্রভাব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।


এই প্রসঙ্গে আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতার কথাও উঠে আসে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান আসিম মুনির-সহ সে দেশের একাধিক শীর্ষ কর্তা আমেরিকা সফর করেছেন। ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায়ও পাকিস্তানের ভূমিকা দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আমেরিকার বোঝা প্রয়োজন বলেই বার্তা দিয়েছেন জয়শঙ্কর।

সন্ত্রাসবাদ নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভাতেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন জয়শঙ্কর। সেখানে তিনি সন্ত্রাসবাদে মদতদাতাদের নিজেদের আচরণ বদলানোর কথা বলেন এবং আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের কথাও জানান।

তবে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কোনও চূড়ান্ত নেতিবাচক বার্তা দেননি বিদেশমন্ত্রী। বরং তাঁর বক্তব্য, ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় দিল্লি। সেই সঙ্গে বর্তমান সমস্যাগুলিকেও বাস্তবভাবে বিবেচনা করতে হবে। বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও আশার কথা শুনিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, চুক্তি চূড়ান্ত হলে তা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ভাল জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। তবে আমেরিকার শুল্কনীতিতে পরিবর্তনের ফলে ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য নিয়ে আলোচনায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই দুই দেশ এখনও বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি।

অর্থাৎ, বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ নিয়েও ওয়াশিংটনের সঙ্গে দিল্লির মতপার্থক্য রয়েছে। নিউ ইয়র্কের মঞ্চ থেকে সেই উদ্বেগই ফের স্পষ্ট করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী।