ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ্ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ১০০ দিনেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। অথচ এখনও তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়নি। এই পরিস্থিতি ঘিরে দেশ-বিদেশে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ইরান সরকার আগেই জানিয়েছিল, মাশহাদে তাঁকে সমাহিত করা হবে। তার আগে দেশের বিভিন্ন শহরে শোকযাত্রা ও জনসমাবেশের পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে সেই আয়োজন বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। তেহরানের আশঙ্কা, বড় জমায়েত হলে তা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে খামেনির উত্তরসূরি ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও এখনও পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি। নিরাপত্তাজনিত কারণেই তাঁকে আড়ালে রাখা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এবং খামেনির শেষকৃত্য— দু’টিই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে আবার বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এমনকি মোজতবা আদৌ সুস্থ আছেন কি না, বা তিনি এখনও জীবিত কি না, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। কারণ নতুন সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর থেকে তাঁকে একবারও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। যদিও তিনি যে জীবিত শুধু নয়, সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন জোরালোভাবে সেই দাবি করে এসেছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ইতিহাসে এটি এক বিরল পরিস্থিতি, যেখানে নতুন নেতা নির্বাচিত হলেও প্রয়াত নেতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। খামেনির মরদেহ বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে সরকার কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি। এর ফলে মরদেহের বর্তমান অবস্থা নিয়েও জল্পনা বাড়ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি বিরল। নতুন নেতা দায়িত্ব নিয়েছেন, কিন্তু প্রয়াত নেতার শেষকৃত্য এখনও হয়নি। ফলে নেতৃত্বের পরিবর্তন ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা— দুই ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে।