সৌদি আরবের তেল শোধনাগার ও বিমানবন্দরে হামলার দাবি হুথিদের, চরমে উত্তেজনা

Photo: BBC

পশ্চিম এশিয়ায় সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। শনিবার সৌদি আরবের একাধিক তেল পরিকাঠামো ও বিমানবন্দরে নতুন করে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা। অন্যদিকে, ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার অভিযোগ করেছে, দক্ষিণ ইয়েমেনের এডেন বন্দরের উপকূলরক্ষী বাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বিদ্রোহীরা।

হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পূর্বাঞ্চলের দাম্মাম ও দক্ষিণের নাজরান বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এর পাশাপাশি ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর একটি পরিকাঠামো এবং রাবিঘ তেল শোধনাগারেও হামলার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। সৌদি কর্তৃপক্ষ সরাসরি এই দাবিগুলির জবাব না দিলেও জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ তেল পরিকাঠামোর লক্ষ্যবস্তুর কাছে আছড়ে পড়ে।

হুথিদের সংবাদমাধ্যম আল-মাসিরার দাবি, ইয়েমেনে সৌদি হামলায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সানায় একটি বাড়িতে হামলায় অন্তত ৪ জন, সিমেন্ট কারখানার শ্রমিকদের আবাসনে আটজন এবং হোদেইদার বাইরে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সৌদি আরব এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।


সৌদি নাগরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুথিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে ধ্বংসাবশেষ পড়ে। মক্কার বাইরে ওয়াদি মুগামাস এলাকাতেও কিছু ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। তবে দুই শহরকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা। ইয়াহিয়া সারি এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন।

আরও পড়ুন: জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ, সুনামি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

রবিবার ফের রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে সামরিক লক্ষ্য বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথিরা। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিবার থেকে টার্মিনাল ১-এ অভ্যন্তরীণ ও টার্মিনাল ২-এ জাতীয় বিমান সংস্থাগুলির আন্তর্জাতিক উড়ান পরিচালিত হবে।