পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালী ঘিরে সামরিক পরিস্থিতি জটিল আকার নিচ্ছে। ইসলামাবাদে ভেঙে যাওয়া শান্তি-আলোচনার পরই আমেরিকার হঠাৎ সামুদ্রিক অবরোধের সিদ্ধান্তে ইরান-আমেরিকা সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেল যাতায়াত করে। ফলে এখানকার পরিস্থিতি অস্থির হলে তার প্রভাব সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে পড়তে বাধ্য।
মার্কিন নৌবাহিনী ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালীর দুই প্রান্তে কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে। একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে ইরানের বন্দরগামী ও সেখান থেকে বেরোনো জাহাজগুলির ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। সন্দেহজনক মনে হলে মাঝ সমুদ্রে জাহাজ থামিয়ে তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে নৌসেনা বা মেরিন বাহিনী সরাসরি জাহাজে উঠে অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে।
এই অভিযানে বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার এবং উভচর যুদ্ধজাহাজ থেকে উড়ন্ত হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নত স্যাটেলাইট নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের সাহায্যে প্রতিটি নৌ চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তবে এই অবরোধ কার্যকর রাখা সহজ নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জাহাজ আটকানোর পর সেগুলির নিরাপত্তা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পুরোপুরি মার্কিন বাহিনীর ওপর পড়ে। ফলে বিশাল পরিকাঠামো ও রসদের প্রয়োজন হচ্ছে এই অভিযানে।
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা কৌশল নিতে পারে বলে আশঙ্কা। দ্রুতগতির নৌকা, ড্রোন বা সমুদ্র-মাইন ব্যবহার করে যে কোনও সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। হরমুজ প্রণালীর সংকীর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই পদক্ষেপের পিছনে মূল উদ্দেশ্য হিসেবে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করার কৌশলকেই সামনে আনছে আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তেলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করছে। সেই কারণেই অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলতেই এই অবরোধ প্রয়োজন বলে মত তাঁর।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই সংঘাত আরও বাড়লে তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাণিজ্যে ব্যাঘাত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।