ফুটবল বিশ্বকাপের জৌলুসের আড়ালে চাপা পড়ছে গৃহহীন মানুষের দুর্দশা।যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের আয়োজনকে ঘিরে অভিযোগ উঠেছে মানবাধিকার সংগঠন ও গৃহহীনদের একাংশের তরফে। তাঁদের দাবি, বিদেশি পর্যটকদের সামনে শহরের ‘পরিচ্ছন্ন’ ছবি তুলে ধরতে বিশ্বকাপের আগে বিভিন্ন শহর থেকে গৃহহীনদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দাবি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও জন-নিরাপত্তার কারণে করা হয়েছে , বিশ্বকাপের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই।
আটলান্টার ফ্রিডম পার্ক-সহ একাধিক এলাকায় বসবাসকারী গৃহহীনদের অভিযোগ, কোনও আগাম নোটিস ছাড়াই তাঁদের তাঁবু, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকের দাবি, তাঁদের শহরের বাইরে বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কয়েক জনের বক্তব্য, প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহরকে পরিচ্ছন্ন ও গৃহহীনমুক্ত দেখানো।
গৃহহীন ব্যক্তি ড্রেভন ক্লার্কের অভিযোগ, তাঁদের জোর করে বসবাসের জায়গা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। অন্য এক ব্যক্তি সাইরাস দাবি করেছেন, তাঁকে একটি অস্থায়ী কেন্দ্র বা ‘ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট ক্যাম্প’-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে পরে তিনি বেরিয়ে আসেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আটলান্টা শহরের আধিকারিকদের দাবি, ফ্রিডম পার্কে কোনও বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়নি। পার্কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি ছিল। যদিও স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার কর্মীদের বক্তব্য, ওই অভিযানের পর থেকেই পার্কে গৃহহীনদের কোনও উপস্থিতি ছিল না। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে গৃহহীনদের সরানোর অভিযোগ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই নয়, কানাডা ও মেক্সিকোর কয়েকটি শহরেও উঠেছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে আটলান্টার মেয়র আন্দ্রে ডিকেন্স জানিয়েছিলেন, শহরের পার্কগুলিতে গৃহহীনদের বসবাস করতে দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য, এই নীতি বিশ্বকাপ উপলক্ষে নয়, শহরের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অবস্থানেরই অংশ।
এদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আটলান্টায় গৃহহীন কর্নেলিয়াস টেলরের মৃত্যুর ঘটনাও নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। অভিযোগ, রাস্তা পরিষ্কারের সময় একটি ভারী যন্ত্রের ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং গৃহহীনদের পুনর্বাসন ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনের নামে গৃহহীনদের অধিকার খর্ব করা উচিত নয়। বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসের মধ্যে এই বিতর্ক এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।