বাংলাদেশে ফের হিন্দু হত্যা

ফের বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের শেষ দিন উন্মত্ত জনতার হামলার শিকার হন হিন্দু ব্যক্তি খোকন দাস। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ৫০ বছর বয়সি খোকন দাস বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় একদল কট্টরপন্থী উন্মত্ত জনতা তাঁর উপর চড়াও হয়। অভিযোগ, তাঁকে প্রথমে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় এবং পরে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে খোকন পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। তাতে তিনি সাময়িকভাবে রক্ষা পেলেও শরীরের গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের স্ত্রী জানিয়েছেন, হামলাকারীরা কারা ছিলেন, তা তিনি শনাক্ত করতে পারেননি। তবে তাঁর স্বামী একজন সাধারণ, শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং কারও সঙ্গে তাঁর কোনও শত্রুতা ছিল না। তিনি ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর একের পর এক হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৪ ডিসেম্বর কালিমোহর ইউনিয়নে অমৃত মণ্ডল নামে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে। তার আগে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় দীপুচন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে গায়ে আগুন লাগানোর ঘটনাও দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের উপর হিংসার ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ মানবাধিকার সংগঠনগুলির।