বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগের মধ্যেই ফের চাঞ্চল্যকর মৃত্যু। সুনামগঞ্জ জেলার দেরাই উপজেলায় ঋণের অজুহাতে হেনস্থার পর বিষ খেয়ে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃতের নাম জয় মহাপাত্র (১৯)। স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের দাবি, দোকানদারের মারধর ও অপমান সহ্য করতে না পেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেয় সে।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, জয় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় একটি মোবাইল কিনেছিল। দু’হাজার টাকা নগদ মেটানোর পর বাকি টাকা সাপ্তাহিক কিস্তিতে দেওয়ার কথা ছিল। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলেও শেষ কিস্তি দিতে কিছুটা দেরি হয়। সেই টাকা মেটাতে দোকানে গেলে অভিযুক্ত দোকানদার ও তার সঙ্গীরা জয়কে মারধর ও অপমান করে বলে অভিযোগ।
জয়ের এক আত্মীয় জানান, দোকানে মোবাইলটি কেড়ে নেওয়া হয়। পরে সিম কার্ড ফেরত চাইতে গেলে সন্ধ্যায় আসতে বলা হয়। অভিযোগ, সন্ধ্যায় গেলে জয়কে চড় মারা হয়। সেই অপমানের পরই দোকানের কাছেই বিষ খেয়ে নেয় সে। গুরুতর অবস্থায় তাকে সিলেটের একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃতের মায়ের কান্নাভেজা অভিযোগ, ‘আমার ছেলের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সিম চাইলে সন্ধ্যায় আসতে বলা হয়। সন্ধ্যায় গেলে ওকে মারে। সেই দোকানেই আমার ছেলে বিষ খায়।’ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, গত এক মাসেরও কম সময়ে এটি অষ্টম হিন্দু মৃত্যুর ঘটনা, আর চলতি সপ্তাহেই চতুর্থ। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও গ্রামাঞ্চলে ভয়ের আবহ কাটেনি।
এদিকে দিল্লিতে সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর বারবার হামলার একটি উদ্বেগজনক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ধরনের সাম্প্রদায়িক ঘটনার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ ঢাকার বিদেশ মন্ত্রক। তাদের বক্তব্য, সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে ভারতের মন্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে খাটো করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মাঝেই দেরাইয়ের তরুণের মৃত্যু ফের প্রমাণ করল, বাস্তব পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ। সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে বাংলাদেশের সামনে যে কঠিন প্রশ্ন উঠে আসছে, তার উত্তর এখনও অধরা।