Explainer: শ্রেণিকক্ষ থেকে রাজপথ, ইউরোপের বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে, কেন?

Image: SNS

দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় খরচ, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো এবং সরকারি পরিষেবার অবনতির অভিযোগ ইউরোপের একাধিক দেশ বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও ইতালিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। কিন্তু কেন একসঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে এই অসন্তোষ দানা বেঁধেছে? এর পিছনে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ, শিক্ষা নিয়ে উদ্বেগ এবং সরকারের নীতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বিক্ষোভের তাৎক্ষণিক কারণ এক নয়। কোথাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো ও শিক্ষক সঙ্কট নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা পথে নেমেছেন, কোথাও আবার উচ্চশিক্ষার খরচ বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আবার কোথাও মজুরি, কর এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন সাধারণ মানুষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলি।

তবে এই পৃথক আন্দোলনগুলির মধ্যে একটি সাধারণ যোগসূত্র রয়েছে। তা হল, ক্রমবর্ধমান খরচের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আয় না বাড়া এবং প্রয়োজনীয় সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ। বিশেষত তরুণ প্রজন্ম এবং কম আয়ের পরিবারগুলি এই চাপের মুখে বেশি সমস্যায় পড়ছে বলে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য।


ফ্রান্সে পরিস্থিতি সবচেয়ে হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে। শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, প্রায় ১২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সংঘর্ষে ১৫০ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর। অন্য দিকে, বেলজিয়াম ও ইতালিতেও বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

তবে তিন দেশের আন্দোলনকে একটিমাত্র আন্দোলন হিসেবে দেখা যাবে না। প্রতিটি দেশের নিজস্ব সমস্যা ও দাবিদাওয়া থাকলেও জীবনযাত্রার মান এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ তাদের মধ্যে আবার যোগসূত্রও তৈরি করেছে।

ফ্রান্সে বিক্ষোভের সূত্রপাত কোথা থেকে?

ফ্রান্সে বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির দুরবস্থা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ থেকে। স্কুলের পরিকাঠামোর সমস্যা, অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, অতিরিক্ত ভিড়ের ক্লাসরুম এবং শিক্ষকের অভাব নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিল পড়ুয়াদের মধ্যে।

ধীরে ধীরে সেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন আরও অনেকে। জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি, মজুরি, পেনশন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন বিভিন্ন গোষ্ঠীও প্রতিবাদে যোগ দেয়।

১৭ অক্টোবর দেশজুড়ে বিক্ষোভে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠন ও সরকারের নীতির বিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী অংশ নেয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দেশের ১১০টি বিক্ষোভ মিছিলে প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্যারিসে ছিলেন প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার। যদিও আয়োজকদের দাবি, দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লক্ষ।

বেশির ভাগ মানুষ শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদে অংশ নিলেও কয়েকটি শহরে পরিস্থিতি হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। দোকানে ভাঙচুর, গাড়ি ও ভবনে আগুন লাগানো এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্যারিসে ব্যাপক ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়। লিমোজ শহরে ঐতিহাসিক পুরসভা ভবনেরও আগুনে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী লেকর্নুর দেওয়া পরবর্তী হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ১২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫০ জন পুলিশকর্মী।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ সরকারি ভবন ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলার নিন্দা করে জানিয়েছেন, হিংসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। আগামী ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই বিক্ষোভ মাক্রোঁর প্রশাসনের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: ফ্রান্স জুড়ে বিক্ষোভ, দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ম্যাক্রোঁর

আবার কেন আলোচনায় ২০১৮ সালের ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন?

ফ্রান্সের বিক্ষোভকে ঘিরে ২০১৮ সালের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের প্রসঙ্গও ফিরে এসেছে। সে বছর জ্বালানির উপর প্রস্তাবিত কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। পরে সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য, করনীতি এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিচ্ছিন্নতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে।

আন্দোলনটির নাম এসেছিল গাড়িচালকদের কাছে থাকা বাধ্যতামূলক উজ্জ্বল হলুদ রঙের সুরক্ষা-জ্যাকেট থেকে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ ও আর্থিক অবস্থানের মানুষ এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। কয়েক মাস ধরে চলে বিক্ষোভ।

বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের মিল রয়েছে জীবনযাত্রার খরচ, ক্রয়ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনমানসে জমে থাকা ক্ষোভের ক্ষেত্রে।

ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের কয়েক জন প্রাক্তন কর্মী সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে ১৭ অক্টোবরের আন্দোলন তাঁদের সংগঠন পরিচালনা করেছে, এমন দাবির সঙ্গে একমত নন তাঁদের সকলেই।

এই তুলনা থেকে বোঝা যায়, ফ্রান্সে অর্থনৈতিক অসন্তোষের বিষয়টি এখনও রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান বিক্ষোভকে আগের আন্দোলনের সরাসরি পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখার আগে দুইয়ের মধ্যে পার্থক্যও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বেলজিয়ামে কেন পথে নামলেন পড়ুয়ারা?

বেলজিয়ামে বিক্ষোভের প্রধান কারণ শিক্ষা খরচ বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় প্রস্তাবিত পরিবর্তন। ছাত্র সংগঠনগুলির আশঙ্কা, নতুন পদক্ষেপগুলির ফলে উচ্চশিক্ষা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। এতে আর্থিক সমস্যায় থাকা পরিবারগুলির সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

শনিবার ব্রাসেলসে কয়েকশো বিক্ষোভকারী জমায়েত হন। তাঁদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছোড়া এবং একটি গাড়ি উল্টে দেওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তাবাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

লিয়েজ শহরেও একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। সেখানে শিক্ষার খরচ এবং পড়াশোনার প্রয়োজনীয় উপকরণ পাওয়ার সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছাত্রছাত্রীরা।

বেলজিয়ামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড কুইন্টিন হিংসার নিন্দা করে জানিয়েছেন, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

প্রতিবেশী ফ্রান্সের ঘটনাবলি বেলজিয়ামের বিক্ষোভকারীদের কিছুটা প্রভাবিত করে থাকতে পারে। তবে বেলজিয়ামের আন্দোলনের মূল দাবিদাওয়া শিক্ষা ব্যবস্থা ও তার ব্যয়কে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে।

ইতালিতে বিক্ষোভের নেপথ্যে কী?

ইতালিতেও জীবনযাত্রার খরচ, কম মজুরি, কর এবং সরকারি নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। মিলান, তুরিন, বোলোনিয়া ও রোমের মতো শহরে আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নামেন। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনও বৃহত্তর প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।

মিলানে ‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ কমিটির আয়োজিত একটি বিক্ষোভ চলাকালীন উত্তেজনা ছড়ায়। পিয়াজ্জা দুওমোর কাছে মুখোশ পরা কয়েক জন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছোড়েন বলে অভিযোগ। কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর হয় এবং আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিলানে প্রায় ৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল।

বোলোনিয়ার কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনের কাছেও অশান্তির খবর পাওয়া যায়। তুরিনেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি হিংসার নিন্দা করেছেন। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের গণতান্ত্রিক অধিকারকে স্বীকার করে তিনি বিরোধী দলগুলির কাছে পুলিশকর্মীদের উপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনার স্পষ্ট নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এই বিক্ষোভ ইতালির সরকারের সামনে জীবনযাত্রার মান, সরকারি ব্যয় এবং অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষকে সামনে এনেছে।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে বিক্ষোভের আগুন, পুড়ে ছাই ১৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী টাউন হল! গ্রেপ্তার ১২০০, আহত ১৫০ পুলিশকর্মী

মূল্যবৃদ্ধিই কি বিক্ষোভের একমাত্র কারণ?

জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি এই বিক্ষোভগুলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলেও, পরিস্থিতি শুধুমাত্র মূল্যবৃদ্ধি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। ফ্রান্সে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, মজুরি, পেনশন এবং সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। বেলজিয়ামে  মূল উদ্বেগ শিক্ষা খরচ বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা। ইতালিতে  নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, মজুরি, কর এবং সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির হার কমলেও সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ সঙ্গে সঙ্গে কমে যায় না। কারণ, কয়েক বছর ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবার দাম বেড়ে যাওয়ার পর সেই দাম উঁচু স্তরেই থেকে যেতে পারে। আয় যদি একই হারে না বাড়ে, তা হলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

অনেক বিক্ষোভকারীর কাছে তাই সমস্যাটি শুধু পণ্যের দাম কত দ্রুত বাড়ছে, তা নয়। বরং তাঁদের আয় এবং সরকারি পরিষেবা দিয়ে তাঁরা সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারছেন কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। এই কারণেই শিক্ষা খাতে বরাদ্দ, মজুরি, জ্বালানির দাম এবং করনীতি—আলাদা বিষয় হওয়া সত্ত্বেও—একই বৃহত্তর অর্থনৈতিক অসন্তোষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে।

বিক্ষোভ সামলাতে কী পদক্ষেপ করছে সরকারগুলি?

তিন দেশের সরকারই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে স্বীকার করার পাশাপাশি পুলিশ, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে হামলার নিন্দা করেছে। ফ্রান্সে মাক্রোঁ ও লেকর্নু ভাঙচুর এবং হিংসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। বেলজিয়ামে অশান্তি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিভিন্ন পদক্ষেপ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুইন্টিন হিংসাত্মক ঘটনাগুলিকে জনশৃঙ্খলার উপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন। ইতালিতে মেলোনি বিরোধী দলগুলির কাছে পথের হিংসার স্পষ্ট নিন্দা দাবি করেছেন।

তবে পুলিশের ভূমিকা এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে এক বিক্ষোভকারীর হাতে গুরুতর আঘাত লাগার পর ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কোনও অস্ত্র বা গ্রেনেডের কারণে ওই আঘাত লেগেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রশ্নটিকেও সামনে এনেছে।

বিক্ষোভে কি বড় রাজনৈতিক সঙ্কটের দিকে এগোচ্ছে?

এই মুহূর্তে ইউরোপের সরকারগুলির সামনে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এক দিকে, হিংসা ও ভাঙচুর নিয়ন্ত্রণে এনে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা। অন্য দিকে, যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলি মানুষকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে, সেগুলির সমাধান করা।

ফ্রান্সের ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে থাকায় জীবনযাত্রার মান ও সরকারের নীতি নিয়ে অসন্তোষ রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠন এবং আগে থেকেই সক্রিয় প্রতিবাদী গোষ্ঠীগুলির অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে আরও আন্দোলনের সম্ভাবনাও তৈরি করছে।

বেলজিয়াম ও ইতালিতেও শিক্ষা, অর্থনৈতিক চাপ এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সাধারণ মানুষের মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।

তবে এই বিক্ষোভগুলিকে একক কোনও ইউরোপীয় গণআন্দোলন বলা ঠিক হবে না। দেশভেদে দাবিদাওয়া ও পরিস্থিতির পার্থক্য রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন দেশে প্রায় একই সময়ে অসন্তোষের বিস্ফোরণ দেখিয়ে দিচ্ছে, জীবনযাত্রার মান এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ কতটা গভীর হতে পারে।

আরও দেখুন: ‘কোথায় ভুল, এখনই বলা ঠিক নয়’, চোরবাগান প্রসঙ্গে সজল ঘোষ