গ্রেপ্তার ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ অ্যান্ড্রু

পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ অ্যান্ড্রু। বৃহস্পতিবার সকালে নরফকের স্যান্ড্রিংহাম প্রাসাদ থেকে তাঁকে আটক করে টেমস ভ্যালি পুলিশ। ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু বৃহস্পতিবারই ৬৬ বছরে পা দিয়েছেন। জন্মদিনের দিনই গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি পদে থেকে অসৎ আচরণের অভিযোগে অ্যান্ড্রুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তরফে সরাসরি কিছু বলা না-হলেও অনেকে মনে করছেন, এপস্টিন ফাইল সংক্রান্ত তদন্তে নেমেই ব্রিটেনের প্রাক্তন এই যুবরাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। তাতে অবশ্য সরাসরি অ্যান্ড্রুর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্তে নেমে নরফক থেকে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সরকারি পদে থেকে অসৎ আচরণ করেছেন, সেই সন্দেহ থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


তদন্তের অংশ হিসেবে বের্কশায়ার ও নরফকের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতেও বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়েছেন অ্যান্ড্রু। সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারি সেই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিল। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ সেভাবে কিছু জানাতে চায়নি।

যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বহুদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। তথাকথিত ‘এপস্টিন ফাইল’-এ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির পাশাপাশি অ্যান্ড্রুর নামও উঠে আসে। সদ্য প্রকাশিত নথিপত্রে তাঁর দু’টি আপত্তিকর ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে।

ফাইল থেকে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে এপস্টিন যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন অ্যান্ড্রু। এমনকি ইমেলের মাধ্যমে নিজের দুই কন্যা—ইউজেনি ও বিট্রিসের ছবিও পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়।

এপস্টিন বিতর্কে নাম জড়ানোর পর গত অক্টোবরেই ব্রিটিশ রাজপরিবার অ্যান্ড্রুর বিভিন্ন সামরিক খেতাব ও রাজকীয় সম্মান কেড়ে নেয়। রাজপ্রাসাদের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নির্যাতিতাদের প্রতি রাজপরিবারের সমবেদনা রয়েছে। যদিও বিবৃতিতে সরাসরি কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ ছিল না। তবে রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট হয় যে, এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক ও যৌন নিগ্রহের অভিযোগের জেরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের তরফে নেওয়া এই পদক্ষেপ রাজপরিবারের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এপস্টিন যোগ ও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের জেরে অ্যান্ড্রুর জনসমক্ষে উপস্থিতি ও সরকারি ভূমিকা আগেই সীমিত করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারি সেই বিতর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।

প্রিন্স অ্যান্ড্রু বহু বছর ধরেই বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে পরিচিত। প্রায় ছয় বছর আগে যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন ভার্জিনিয়া জিওফ্রে। তিনি দাবি করেন, নাবালিকা অবস্থায় তাঁকে জোর করে যৌন সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং সেই ঘটনায় অ্যান্ড্রুও জড়িত ছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দেওয়ানি মামলা দায়ের হয়। যদিও তিনি শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং তিনি কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন।

ব্রিটেনের প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথে তৃতীয় সন্তান অ্যান্ড্রু এক সময় রাজপরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু এপস্টিন বিতর্ক প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর সরকারি দায়িত্ব ও জনসমক্ষে উপস্থিতি ক্রমশ কমে আসে। অভিযোগ, অস্বীকার, আইনি টানাপোড়েন এবং জনমতের চাপ— সব মিলিয়ে অ্যান্ড্রুর নাম বিতর্কের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায়।