যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ অ্যান্ডুমাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর ঘনিষ্ঠতার কথা আগেই প্রকাশ্যে এসেছে। তার জেরে গ্রেপ্তারও হয়েছেন তিনি। এই ঘটনা ব্রিটিশ রাজনীতি আলোড়ন তৈরি করে। এ বার গ্রেপ্তার হলেন ব্রিটেনের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসন। সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে মেট্রোপলিটন পুলিশ। যদিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জামিনে ছাড়া পেয়ে যান তিনি।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি পদে থেকে অসদাচরণের অভিযোগে ৭২ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্রিটেনের আইন অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করা যায় না। কয়েক দিন আগেই একই ধরনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ব্রিটেনের প্রাক্তন যুবরাজ অ্যান্ড্রু । সে ক্ষেত্রেও পুলিশ এপস্টিন-কাণ্ডের সরাসরি উল্লেখ করেনি।
ম্যান্ডেলসন অতীতে আমেরিকায় ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন। গত বছর তাঁর সঙ্গে এপস্টিনের ইমেল যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। যা সামনে আসতেই চাপে পড়ে ব্রিটিশ সরকার। পরে তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এর মধ্যেই সোমবার ম্যান্ডেলসনকে উত্তর লন্ডনের ক্যামডেন এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অ্যান্ড্রুর মতো এ ক্ষেত্রেও ম্যান্ডেলসনের নামোল্লেখ করেনি পুলিশ। পুলিশি গাড়িতে করে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে লন্ডন ও পশ্চিম ইংল্যান্ডে তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। গ্রেপ্তারির পরে এক বিবৃতিতে লন্ডন পুলিশ জানিয়েছে, ‘সরকারি পদে থেকে অসদাচরণ করার সন্দেহে ৭২ বছর বয়সি একজনকে গ্রেপ্তার করেছেন আধিকারিকেরা।‘ অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তারির সময়েও এই একই বয়ান দিয়েছিল পুলিশ।
মার্কিন বিচারবিভাগ সম্প্রতি এপস্টিন সংক্রান্ত যে নথি প্রকাশ করেছে, তাতে ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ইঙ্গিত মেলে।চলতি মাসের শুরুর দিকে ম্যান্ডেলসনের লন্ডন এবং ওয়েস্ট ইংল্যান্ডের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারির পরও এ বিষয়ে সরাসরি কিছু জানায়নি পুলিশ। রাতে তাঁকে লন্ডনের বাসভবনে ফিরতে দেখা যায়। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।