যুদ্ধের প্রভাবে রাশিয়ায় অগ্নিমূল্য নিত্যপণ্য, মাংসের দরে শশা বিক্রি

যুদ্ধের দীর্ঘ ছায়ায় জর্জরিত রাশিয়া–তে এবার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় থাকা শশাই এখন বিকোচ্ছে ‘সোনার দরে’। মূল্যবৃদ্ধির জেরে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ, সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিবাদ।

বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ডিসেম্বরে যে দামে শশা বিক্রি হত, বর্তমানে সেই দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। এখন রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে এক কেজি শশার দাম পৌঁছেছে প্রায় ৩০০ রুবেলে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৫৬ টাকার সমান। কিছু জায়গায় ব্যবসায়ীরা আরও বেশি দাম নিচ্ছেন। ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে শশার দাম অনেক ক্ষেত্রে মাংসের থেকেও বেশি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই সংঘর্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে সামরিক খাতে। তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের অসামরিক অর্থনীতিতে। সরকারকে প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল ব্যয় করতে হওয়ায় খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভর্তুকি কমাতে হয়েছে।


এছাড়াও কর বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। জানা গিয়েছে, ভ্যাটের হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২২ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে উৎপাদন ও পরিবহণ খরচ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরো বাজারে। অন্যদিকে, রাশিয়ার তীব্র শীতের কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়াও মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

তবে দেশের সব জায়গায় পরিস্থিতি একই নয়। সাইবেরিয়া অঞ্চলে এখনও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বাজারদর। সেখানে সুপারমার্কেটগুলিতে তুলনামূলক কম দামে খাদ্যপণ্য পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু রাজধানী মস্কোসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধিতে।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে কয়েকটি জনপ্রিয় সংবাদপত্র। তারা পাঠকদের বিনামূল্যে শস্য ও সবজির বীজ বিতরণ করছে, যাতে মানুষ বাড়িতেই সবজি চাষ করে খরচ কমাতে পারেন।

এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সরাসরি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন–এর সমালোচনায় সরব হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্যপণ্যের মূল্য আরও বাড়তে পারে। ফলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।