করাচির মার্কিন উপদূতাবাসে আগুন, পুলিশের গুলিতে নিহত কমপক্ষে ৯ জন

আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। খামেনেই মৃত্যুর জেরে পাকিস্তানের করাচি জুড়ে তীব্র আমেরিকা-বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন কনসুলেট ঘিরে চলে বিক্ষোভ। খামেনেই হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ উপদূতাবাস চত্বরে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন।

এই ঘটনার একাধিক ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যার সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক স্টেটসম্যান। কনসুলেটের বাইরে উত্তেজিত জনতা ও নিরাপত্তাবাহিনীর মধ্যে ধস্তাধস্তি চলে। বিক্ষোভকারীদের উপদূতাবাস লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে এবং পরে লাঠিচার্জ করে। গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছে। কিছু অংশে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, খামেনেইয়ের মৃত্যুসংবাদ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই করাচিতে বিক্ষিপ্ত অশান্তি শুরু হয়। পরে বহু মানুষ তাঁর ছবি হাতে নিয়ে মার্কিন কনসুলেটের সামনে জড়ো হন এবং আমেরিকা-বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।


উদ্ধারকারী দলের মুখপাত্র মুহাম্মদ আমিন জানিয়েছেন, কয়েকটি মৃতদেহ করাচির সিভিল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তাঁর দাবি, হতাহতদের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। পাকিস্তানে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসও এক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে অভিহিত করেছে।

পশ্চিম এশিয়ার অন্যত্রও একই রকম বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে। ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, সেখানে ইরানের পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ছোঁড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা এখনও অব্যাহত।