হ্যালোউইন ঘিরে নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা ফ্রান্সে, ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন

Image: IANS

শিক্ষাক্ষেত্রে পরিকাঠামোর অভাব, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও বৈষম্যের প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স। শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, লুটপাট ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এবার হ্যালোউইনকে কেন্দ্র করে নতুন করে অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা করছে প্রশাসন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবার দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশকর্মী ও জেন্ডার্ম মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ।

প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর রাতে পালিত হয় হ্যালোউইন। ‘অল হ্যালোজ ইভ’ থেকে আসা এই উৎসবে নানা অতিলৌকিক চরিত্রের মুখোশ ও পোশাক পরার চল রয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, সেই মুখোশের আড়ালকে কাজে লাগিয়ে বিক্ষোভকারীরা শহরের কেন্দ্রস্থল ও জনসমাগমের জায়গায় হিংসা ছড়াতে পারে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের নুনেজ বলেন, ৩১ অক্টোবর জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ‘অত্যন্ত উচ্চ’ ঝুঁকি রয়েছে। গত সপ্তাহের মতোই দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে। দোকানপাট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রক্ষায় নিরাপত্তার ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হবে।

নুনেজ জানিয়েছেন, বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হলেও শহরের কেন্দ্রস্থলে জমায়েত করতে দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, সেখানেই জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। বুধবার জারি করা নির্দেশিকায় প্যারিসের পুলিশ প্রধান ও আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্তাদের বিক্ষোভ মোকাবিলায় ‘শক্তিশালী’ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, হ্যালোউইনকে সামনে রেখে শহরের কেন্দ্র ও জনসমাগমস্থলে জমায়েতের ডাক দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একাধিক বার্তা ছড়িয়েছে। সেগুলির পিছনে থাকা ব্যক্তিদের আরও হিংসা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিপ্রায় রয়েছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রশাসন।


গত কয়েক সপ্তাহে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বামপন্থী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে উগ্র-ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলির সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এই ধরনের কোনও অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নুনেজ। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ করবে।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্যারিসের উপকণ্ঠে একটি স্কুলে শিক্ষক-সংকটের প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। পরে তা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও বৈষম্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। গত ১৭ অক্টোবরের দেশব্যাপী বিক্ষোভের জেরে সংঘর্ষ, ব্যাপক লুটপাট ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থায় ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে। যদিও গত সপ্তাহান্তের বিক্ষোভগুলি মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল, প্যারিস-সহ কয়েকটি শহরে বিচ্ছিন্ন হিংসার ঘটনা ঘটে।

এই আন্দোলনের আবহে সোমবার ছাত্রছাত্রীদের দাবির জবাবে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং স্কুল সংস্কারের জন্য ঋণ দেওয়ার মতো উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফ্রান্সে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। তার আগে এই বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।