ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সিরিয়া সফরের মধ্যেই বিস্ফোরণ

Image: SNS

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়ের ম্যাক্রোঁর সিরিয়া সফরের মধ্যেই রাজধানী শহর দামাস্কাসে জোড়া বিস্ফোরণ। সোমবারের এই ঘটনায় চার জন পুলিশকর্মী-সহ কমপক্ষে ১৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় বিস্ফোরণের ঘটনা। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গিগোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।

সিরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণ দু’টি ঘটে পর্যটন মন্ত্রকের অধীন একটি হোটেলের কাছে। ওই হোটেলেই সোমবার রাতে ছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বিস্ফোরণের সময় তিনি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শরা কুর্দের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। ফরাসি প্রতিনিধিদলের দাবি, বিস্ফোরণের শব্দ ম্যাক্রোঁর শোনেনি এবং তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন।

এর আগেও গত ২ জুলাই দামাস্কাসের হেজাজ এলাকায় ‘প্যালেস অব জাস্টিস’-এর সামনে বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৯ জন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনাতেও তদন্তকারীদের সন্দেহের কেন্দ্রে ছিল ইসলামিক স্টেট।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর বিদ্রোঙী গোষ্ঠী হায়াত তাহরিন আল-শাম(এইচটিএস) এবং তাদের সহযোগী জইস আল-ইজ্জা যৌথভাবে দামাস্কাসের নিয়ন্ত্রণ দখল করে। এর জেরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি সপরিবারে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন।

সেই সময় বিদ্রোহী বাহিনীকে সমর্থন দিয়েছিল তুরস্ক। পরবর্তীতে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শরা এবং সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের কমান্ডার মাজলুম আবদির মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়, যাতে নবগঠিত সিরিয়া সেনাবাহিনীতে বিদেশি যোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও উঠে আসে। গৃহযুদ্ধ চলাকালীন এইচটিএস-এর পক্ষে প্রায় চার হাজার বিদেশি যোদ্ধা লড়াই করেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও বিদেশি যোদ্ধাদের সিরিয়ার নতুন সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে সমর্থন জানায়।