নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আনন্দে মেতে উঠেছিলেন তাঁরা। সুইৎজারল্যান্ডের জনপ্রিয় স্কি রিসর্ট শহর ক্রঁ-মঁতানার একটি বিলাসবহুল বারে জড়ো হয়েছিলেন অনেকে। আনন্দ যে বিষাদে পরিণত হয়ে যাবে তাঁরা কেউই জানতেন না। স্থানীয় সময় অনুযায়ী বুধবার গভীর রাতে প্রবল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ওই পানশালা। এখনও পর্যন্ত মৃত কমপক্ষে ৪০ জন। বিস্ফোরণের সময় পানশালার ভিতরে বহু মানুষ বর্ষবরণের উদ্যাপনে ব্যস্ত ছিলেন বলে খবর। বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছেন অনেকে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, স্থানীয় সময় অনুযায়ী রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ ক্র্যানস-মন্টানার লে কনস্টেলেশন নামে একটি পানশালায় ঘটনাটি ঘটে। নববর্ষ উদ্যাপনের মাঝে পানশালায় একের পর এক বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তে আগুন ধরে যায় গোটা পানশালায়। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে দেন সকলে। ভ্যালাইস ক্যান্টন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় জরুরি পরিষেবাগুলি। আনা হয় একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স ও হেলিকপ্টার। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আহতদের উদ্ধার করা হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টন পুলিশের এক মুখপাত্র গেটান ল্যাথিয়ন জানিয়েছেন, ঘটনায় বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কী থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তা এখনও অজানা। ঘটনার তদন্ত চলছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, পানশালার বেসমেন্টে প্রথম বিস্ফোরণ হয়। সেখান থেকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। লে কনস্টেলেশন নামে ওই পানশালা সাধারণত রাত ২টো পর্যন্ত খোলা থাকে।
সর্বোচ্চ ৪০০ জন অভ্যাগতকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বর্ষবরণের রাতে প্রচুর মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, হতাহতদের মধ্যে পর্যটকেরাই বেশি থাকতে পারেন। তার মাঝেই ঘটে এই ঘটনা। কোনও নাশকতা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। সমাজ মাধ্যমে আগুনে পুড়তে থাকা ওই পানশালার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ওই পানশালায় দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। যদিও ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক স্টেটসম্যান। একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, একটি কনসার্ট চলাকালীন বাজি ফাটানোর জন্য আগুন লাগে। যদিও পুলিশ এই বিষয়ে কিছু জানায়নি।
সুইস আল্পসের কোলে অবস্থিত ক্রঁ-মঁতানা শহর। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে তার পরিচিত। স্কিইং, স্নোবোর্ডিং ও গলফের জন্য সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে এখানে। রাজধানী বার্ন থেকে এই শহরের দূরত্ব প্রায় দু’ঘণ্টার। বিগত কয়েক মাসে সুইৎজারল্যান্ড খরার মুখে পড়েছে। দেশজুড়ে বনাঞ্চলে আগুন লাগার ঘটনাও বেড়েছে। চলতি বছরে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার প্রাচীনতম বিলাসবহুল হোটেল ‘ফোর সিজনস হোটেল দে বার্গ’-এ ভয়াবহ আগুন লাগে। সেই আগুনে একাধিক মানুষ আহত হন। নতুন বছরে এই বিস্ফোরণ সুইৎজারল্যান্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।