মঙ্গলবারে জাপানের কুমামোতে এলাকায় ঘটে গিয়েছে ভয়াবহ ভূমিকম্প। এখনও পর্যন্ত যা তথ্য এসেছে ভূমিকম্পের জেরে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩৮। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের হার ৭.১। তবে প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। তবে মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভূমিকম্পের কারণেই মৃত্যু হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একাধিক জায়গা ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইয়াতসুশিরো শহরের নিপ্পন কারখানা থেকে ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও ওই এলাকার ধ্বংসস্তুপ থেকে এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সামনে আসেনি তার শারীরিক অবস্থার কথা।
কাশিমা টাউনের এইয়ন মলে ভূমিকম্পের পরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ জন আহত। এখনও সেখানে পুলিশ ও দমকলের উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ভূমিকম্পের জেরে হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। বর্তমানে ৪০৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৯,৪০০-র বেশি মানুষ রয়েছেন। সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে পানীয় জলের। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭৯,৭০০টি বাড়িতে এখনও জল সরবরাহ বন্ধ। কবে পরিষেবা স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
ওই এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবাও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১৯,০০০টি বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। তবে কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার জানিয়েছে, মেরামতির কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। জানা গিয়েছে প্রায় ৮ হাজারের বেশি বাড়িতে জল নেই।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বুধবার দ্বিতীয়বারের মতো দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ বৈঠক করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বৈঠকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন কুমামোতোর গভর্নর কিমুরা এবং মন্ত্রিসভার ডেপুটি মন্ত্রী সুশিমা।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিহতদের প্রতি শোকপ্রকাশ করেন এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব দ্রুত সংগ্রহের কাজ চলছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইতিমধ্যেই ত্রাণ ও প্রাথমিক উদ্ধারকাজে নেমেছে।’