খতম মেক্সিকোর কুখ্যাত ‘ড্রাগ লর্ড’ নেমেসিও রুবেন ওসেগেরা সেরভান্তেস। যিনি বিশ্বজুড়ে ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত ছিলেন। মেক্সিকোর সেনা অভিযানে নিহত হয়েছেন। রবিবার জালিস্কো প্রদেশে সেনার বিশেষ অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হন এই কুখ্যাত মাদক সম্রাট। মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা দপ্তর তাঁর মৃত্যুকে বড় সাফল্য বলে দাবি করলেও, ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে। রাস্তা অবরোধের পাশাপাশি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে অসংখ্য গাড়ি। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে সেখানে থাকা ভারতীয়দের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে দূতাবাসের তরফে।
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, গুয়াদালাজারা শহরের তাপালপা এলাকায় মেনচোকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। সেনাবাহিনীর সঙ্গে মাদক চক্রের দীর্ঘক্ষণ গুলির লড়াই চলে। সংঘর্ষে গুরুতর জখম হন মেনচো। তাঁকে দ্রুত এয়ারলিফট করে মেক্সিকো সিটিতে নিয়ে যাওয়ার সময় পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযানে তাঁর সঙ্গে আরও চার জন নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র, রকেট লঞ্চার ও সাঁজোয়া যান। তিন সেনাকর্মীও গুরুতর আহত হয়েছেন।
মেনচোর নেতৃত্বাধীন কার্টেল আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন ছিল। বিপুল পরিমাণ ফেন্টানিল-সহ বিভিন্ন মাদক যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্র তাঁর মাথার দাম ১৫ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছিল। মার্কিন দূতাবাসের দাবি, তাদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। এদিকে, তাঁর মৃত্যুর পর মেক্সিকোর একাধিক অঞ্চলে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাস্তা অবরোধ, গাড়িতে আগুন ও স্কুল বন্ধের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন শহরে। এয়ার কানাডা পুয়ের্তো ভাল্লার্তাগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতীয় দূতাবাস মেক্সিকো জালিস্কো, তামাউলিপাস, মিচোয়াকান, গুয়েরেরো ও নুয়েভো লিওন প্রদেশে থাকা ভারতীয়দের সতর্ক থাকতে বলেছে। ভিড় এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে ৯১১ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস জানিয়েছে, ‘ভিড় জায়গা এড়িয়ে চলুন। ফোন, টেক্সট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজের লোকেশনের বিষয়ে পরিবার ও বন্ধুদের জানিয়ে রাখুন। কোনও সাহায্যের প্রয়োজন হলে +৫২-৫৫-৪৮৪৭-৭৫৩৯ নম্বরে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।‘
এর আগে জানুয়ারি মাসে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ এনেছিলেন। সেই অভিযানের সময়ই মেক্সিকোকে কড়া বার্তা দিয়েছিল ওয়াশিংটন—মাদক সন্ত্রাস দমনে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে হস্তক্ষেপ করা হতে পারে। রবিবারের অভিযানকে অনেকেই সেই সতর্কবার্তার বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন।
মাদুরো-অভিযানের পর থেকেই চাপে ছিলেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক দাবি করেছেন, মেঞ্চো-বিরোধী অভিযানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি টাস্ক ফোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। যদিও মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা কেবল গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিল।
৬০ বছর বয়সি মেঞ্চো একসময় পুলিশে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের শীর্ষে উঠে আসেন। ফেন্টানিল-সহ বিপুল পরিমাণ মাদক পাচার, খুন, চাঁদাবাজি ও মানবপাচারের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। বিশ্বের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই ছিলেন তিনি।