রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে ইউক্রেনের একের পর এক হামলার জেরে দেশটির জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের হামলার প্রভাব শুধু রাশিয়ার উপর পড়ছে না, গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারেই তার প্রভাব পড়ছে।
আয়ারল্যান্ডের ডানবেগে রবিবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার শোধনাগারগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো উচিত নয় ইউক্রেনের। তাঁর কথায়, ইউক্রেন চাইলে অন্য নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে। কিন্তু জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা করা উচিত নয়। কারণ, তাতে ডিজেলের ঘাটতি আরও বাড়ছে।
গত প্রায় এক মাস ধরে রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও জ্বালানি পরিকাঠামোয় ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে ইউক্রেন। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে রাশিয়াও। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার একাধিক শোধনাগারের কাজ ব্যাহত হয়েছে। ফলে দেশের চাহিদা মেটাতে বাইরে থেকে পেট্রল-ডিজেল আমদানি করতে হচ্ছে মস্কোকে।
রাশিয়ার এই জ্বালানি সঙ্কটের ছবি আরও স্পষ্ট হয়েছে আমদানির পরিসংখ্যানে। গত আগস্টে রাশিয়া যে পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করেছে, তার প্রায় ৭০ শতাংশই এসেছে ভারত থেকে। রিপোর্টে এমন দাবি করা হয়েছে। জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে রাশিয়ার পেট্রল আমদানি প্রায় ৭ গুণ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানিও বেড়েছে প্রায় ৩ গুণ।
এদিকে, বিশ্বের বাজারেও জ্বালানির দাম বেড়ে চলেছে। গত শুক্রবার আমেরিকায় ডিজেলের দাম গ্যালন প্রতি ছয় ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাশিয়ার শোধনাগারে হামলার পাশাপাশি ইরান-সংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহণে বাধাও বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা বাআইইএ-র এক প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আগস্টে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে জ্বালানি সরবরাহ ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন: অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হরমুজ নিয়ে বৈঠক, ফের অনিশ্চয়তায় পশ্চিম এশিয়া
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে ঘরেও চাপ বাড়ছে ট্রাম্পের। নভেম্বরে আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে পেট্রল-ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে না এলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে নতুন করে উদ্যোগী হয়েছে ওয়াশিংটন। সেই প্রেক্ষাপটেও জেলেনস্কিকে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধের বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।