বিতর্ক যেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিত্যসঙ্গী। কখনও শুল্কনীতি, কখনও মন্তব্য, আবার কখনও অশালীন আচরণ— সব কিছুর কেন্দ্রেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও এক ঘটনা। একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন ট্রাম্প। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক বিক্ষোভকারীর উদ্দেশে চিৎকার করার পাশাপাশি মধ্যমা প্রদর্শন করছেন তিনি। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা এখনও সরকারিভাবে যাচাই করা হয়নি।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মিশিগানে একটি অটো প্ল্যান্ট পরিদর্শনের সময় ট্রাম্প বিক্ষোভের মুখে পড়েন। ফোর্ড মোটর কোম্পানির ওই কারখানা সফরের সময় এক বিক্ষোভকারী তাঁকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দিতে থাকেন। সেই সময় ট্রাম্প প্রথমে আঙুল তুলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এবং বুঝিয়ে দেন তাঁর অসন্তোষ। অভিযোগ, এরপরই তিনি মধ্যমা দেখান, যা মুহূর্তের মধ্যে ক্যামেরাবন্দি হয়ে যায়।
হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিক্ষোভকারী প্রথমে অশ্লীল ভাষায় ট্রাম্পকে আক্রমণ করেছিলেন। তাঁদের দাবি, প্রেসিডেন্ট সেই পরিস্থিতিতে ‘উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া’ জানিয়েছেন। যদিও কোন বিক্ষোভকারী এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও শনাক্ত করা যায়নি। সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, ওই ব্যক্তি ট্রাম্পকে ‘শিশুদের যৌন নির্যাতনকারীদের রক্ষক’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। সেই মন্তব্যেই ট্রাম্প ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অনুমান।
এই অভিযোগের সূত্র খুঁজতে গেলে উঠে আসে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের নাম। এক সময় ট্রাম্প ও এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠতার কথা মার্কিন রাজনীতিতে বহুবার আলোচিত হয়েছে। মার্কিন হাউসের ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এপস্টেইনের লেখা একটি যৌনগন্ধী চিঠি প্রকাশ করেন, যেখানে ট্রাম্পের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়। যদিও ট্রাম্প সেই চিঠির সঙ্গে নিজের কোনও সম্পর্ক অস্বীকার করেছেন। উল্টে ওই চিঠি প্রথম প্রকাশ করা সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলাও করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই প্রেক্ষাপটেই বিক্ষোভকারীর মন্তব্য ট্রাম্পের পুরনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। আর তারই প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশ্যে এমন অঙ্গভঙ্গি মার্কিন প্রেসিডেন্টের আচরণ ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিল।
উল্লেখ্য, এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হলে দীর্ঘ কারাদণ্ডের সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু মামলার মাঝেই তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা নতুন প্রশ্ন তোলে। এখনও এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি ও মামলা মার্কিন রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে।