ইজরায়েলের ভোটের আগে নেতানিয়াহুর পাশে ট্রাম্প, বার্তা ‘বিবিকেই ফেরান’

File Photo

ইজরায়েলে জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে ফের একবার প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইজরায়েলের ভোটারদের উদ্দেশে সমাজমাধ্যমে সরাসরি নেতানিয়াহুকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, নেতানিয়াহুর সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যে কাজ তাঁরা শুরু করেছেন, তা শেষ করতে তাঁর আবার নির্বাচিত হওয়া জরুরি। ফলে ইজরায়েলের ভোটের আগে ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য সমর্থন নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার নিজের সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ নেতানিয়াহুর সমর্থনে আগের একটি পোস্ট ফের প্রকাশ করেন ট্রাম্প। সেখানে তাঁকে ‘অসাধারণ লড়াকু প্রধানমন্ত্রী’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইজরায়েলের ভোটারদের উদ্দেশে ট্রাম্পের বার্তা, প্রধানমন্ত্রী পদে ফের নেতানিয়াহুকেই ভোট দেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনীর যৌথ অভিযানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ট্রাম্পের বক্তব্য, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কারণেই ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য এসেছে। তাঁর দাবি, এই যৌথ অভিযানের ফলে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা থেকে দূরে রয়েছে এবং দেশটির সামরিক বাহিনী ও অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। নেতানিয়াহু ক্ষমতায় না ফিরলে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকাকে একাই লড়াই করতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।


ইজরায়েলে ভোট মঙ্গলবার। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন হতে চলেছে দেশটিতে। ওই হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দেশে সমালোচনা হয়েছে। গাজার সংঘাত এবং ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের আবহে তাই এবারের ভোট তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিপক্ষ তথা প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট অবশ্য ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থনের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ইজরায়েল একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং দেশের নেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র ইজরায়েলের নাগরিকদেরই রয়েছে।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নেতানিয়াহুই ট্রাম্পকে তাঁর হয়ে প্রকাশ্যে প্রচারে নামার অনুরোধ করেছিলেন। যদিও নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি সেই দাবি অস্বীকার করেছে। ফলে ট্রাম্পের সমর্থন কীভাবে এল, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত কয়েকটি জনমত সমীক্ষায় নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত মিলেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থন নেতানিয়াহুর প্রচারে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।