মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার শৈলী এবং বিশ্বমঞ্চে দেশকে পরিচালনা করার দক্ষতা এবং ভারতকে সংঘাত থেকে দূরে রাখার ক্ষমতার প্রশংসা করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে তাঁর সবচেয়ে পছন্দের দুজন আন্তর্জাতিক নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও প্রতিপত্তির জন্য উভয়কেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘ক্লাসিক’ বলে অভিহিত করেন।
ফ্রান্সের এভ্যাঁ-লে-ব্যাঁ শহরে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে বুধবার মোদী-ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে কেন তিনি এত সম্মানের দৃষ্টিতে দেখেন, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প মোদীর চারটি গুণের কথা তুলে ধরেন। ট্রাম্পের মতে, এই চারটি গুণ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বনেতাদের মধ্যে স্বতন্ত্র করে তুলেছে। প্রথমত, যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার নীতি বজায় রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসা করেন ট্রাম্প। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার একটি বিচক্ষণ পন্থা বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, ‘তিনি যুদ্ধ থেকে দূরে থাকেন, যা বুদ্ধিমানের কাজ। তাঁর দেশ দেড়শো কোটি মানুষের দেশ। ভারতই আসলে সবচেয়ে বড়।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘মোদী সামরিক সংঘাত এড়িয়ে ভারতের স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করেছেন।’ দ্বিতীয়ত, মোদীর নিরবচ্ছিন্ন শাসনকালের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, ‘বছরের পর বছর ধরে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে। তারা শুধু পরিবর্তনই করে গিয়েছে।’ এরপর প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এনেছেন।
ট্রাম্পের কথায়, ‘সারাজীবন আমি ভারতকে দেখেছি তারা কেবল বদলেছে। তারপর হঠাৎ করেই প্রধানমন্ত্রী মোদী সেখানে এলেন। তিনি ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে আছেন। খুবই দৃঢ়তার পরিচয়।’ তৃতীয়ত, ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদীকে এমন একজন নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন যিনি অপরিসীম রাজনৈতিক শক্তির অধিকারী হওয়ার পরও শান্তভাবে তাঁর কাজ করে যান। কঠোরতার পাশাপাশি তিনি শান্তভাব বজায় রাখেন। ট্রাম্পের কথায়, ‘তিনি শান্তভাবে তাঁর কাজটি করেন। অথচ তিনি শান্ত প্রকৃতির মানুষ নন। তিনি খুবই কঠোর একজন মানুষ। আমি তাকে খুব ভালোভাবে চিনি।’
তিনি জানান, মোদী স্থিরতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে সমস্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। মোদী ও শি জিনপিংকে ‘ধ্রুপদী’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘উভয় নেতারই অসাধারণ কর্তৃত্ব ও ব্যক্তিত্ব রয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চে তাঁদের স্বতন্ত্র করে তুলেছে। আপনি যদি তাঁদের দু’জনের যেকোনও একজনকে নিয়ে সিনেমা বানাতে যান, তবে হলিউডে সেই মানুষটিকে খুঁজে পাবেন না।’ তিনি তাঁদের অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্বব্যাপী মর্যাদার উপরে জোর দেন।
ট্রাম্পকে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়েও কথা বলতে দেখা গিয়েছে। তাঁর প্রশাসনের অধীনে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ন্যায্য পথে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর কথায়, ‘দুই দেশ শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।’ তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করে চলেছে। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রধান গণতান্ত্রিক দেশগুলির মধ্যে দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা নির্বাচিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।