রেকর্ড হারে দেশ ছাড়ছেন মার্কিন নাগরিকরা, বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত বছরে যত মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন, তার চেয়ে বেশি সংখ্যক মার্কিন নাগরিক দেশ ছেড়েছেন। মহামন্দার সময়ের পর এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল বলে জানানো হয়েছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের নিট জনসংখ্যা হ্রাস হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। অর্থাৎ, দেশ ছাড়ার সংখ্যা আগমনের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা মানুষের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ থেকে ২৭ লক্ষে, যা ২০২৩ সালে প্রায় ৬০ লক্ষ ছিল। একই সঙ্গে অন্তত ১ লক্ষ ৮০ হাজার মার্কিন নাগরিক গত বছরে ১৫টি ভিন্ন দেশে চলে গিয়েছেন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৪০ লক্ষ থেকে ৯০ লক্ষ মার্কিন নাগরিক বিদেশে বসবাস করছেন। এর মধ্যে প্রায় ১৬ লক্ষ রয়েছেন মেক্সিকোতে, ২ লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি রয়েছেন কানাডায়, এবং ৩ লক্ষ ২৫ হাজারের বেশি রয়েছেন যুক্তরাজ্যতে।

ইউরোপের দেশগুলিতে মার্কিন নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে পর্তুগালে কোভিড মহামারির পর মার্কিন বাসিন্দার সংখ্যা ৫০০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া আয়ারল্যান্ড এবং জার্মানিতেও মার্কিন নাগরিকদের বসবাসের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতাকে ‘ডোনাল্ড ড্যাশ’ নাম দিয়েছেন। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সময় এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন কয়েক বছর ধরেই ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছিল। দেশ ছাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, দূর থেকে কাজের সুযোগ বৃদ্ধি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং উন্নত জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার সুবিধা বা বিদেশে আয়ের উপর কর এড়ানোর জন্য অনেক মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করছেন। ২০২৪ সালে এই ধরনের আবেদনের সংখ্যা ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে তা আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক পরিবার এবং মাঝারি পর্যায়ের পেশাজীবীরাও এখন বিদেশে চলে যাচ্ছেন। তাঁদের মতে, ইউরোপে জীবনযাত্রার মান বেশি উন্নত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলনামূলক ভালো।

উল্লেখ্য, শেষবার ১৯৩৫ সালে, মহামন্দার সময়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি মানুষ বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। সেই সময় অনেকেই কাজের খোঁজে অন্যান্য দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা প্রবণতার উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।