শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা কমিয়ে ফের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে দু’দেশের সরকারি স্তরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের শুরুতে দিল্লি সফরে আসতে পারেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের দিনক্ষণ ও আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর, তারেকের সম্ভাব্য দিল্লি সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি নবীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে গত দু’বছরে দু’দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে সম্পর্ককে নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই সফরের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের মধ্যেই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের জলসম্পদ মন্ত্রী মহম্মদ শহিদুদ্দিন চৌধুরী অনি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দু’দেশের সরকারি আধিকারিকদের মধ্যে সফরের সম্ভাব্য আলোচ্যসূচি নিয়েও কথাবার্তা চলছে বলে সূত্রের খবর।
আগামী ২১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক যাবেন তারেক। অক্টোবর এবং নভেম্বরেও তাঁর একাধিক আন্তর্জাতিক কর্মসূচি রয়েছে। তাই নভেম্বরের কোনও সুবিধাজনক সময়কে দিল্লি সফরের জন্য বেছে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এর আগে দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে বিম্সটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য তারেককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। কিন্তু বাংলাদেশ সেই সম্মেলনে কোনও প্রতিনিধি পাঠায়নি। বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানিয়েছিলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায় ঢাকা। সেজন্য দ্বিপাক্ষিক সফরকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, তারেকও দ্রুত ভারত সফরে আগ্রহী। তবে সফর শেষে দেশের মানুষের সামনে কী কী সাফল্য তুলে ধরা হবে, তা নিয়ে আগে নিশ্চিত হতে চাইছে ঢাকা।
সম্পর্কের বরফ কিছুটা গলার ইঙ্গিত মিলেছে ১৭ সেপ্টেম্বর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান তারেক। তিনি লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জন্মদিনের উষ্ণতম শুভেচ্ছা। আপনার দিনটি শুভ হোক। ভারতের জনগণের প্রতি আপনার সেবা যেন সবসময় সুস্বাস্থ্য ও উচ্চ মনোবলপূর্ণ থাকে।’ এর জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মোদী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আপনার উষ্ণ শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ। আপনার এই সদয় মন্তব্যের আমি গভীরভাবে প্রশংসা করি।’
আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় পাকিস্তানে ফের কড়াকড়ি, সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ অর্ধেক
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণবিক্ষোভের মুখে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। তাঁর সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তারপরেই দু’দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে তারেকের সম্ভাব্য দিল্লি সফর দু’দেশের সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।