গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান আরও একবার আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল। ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ফের বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপটির উপরে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কৌশলগত ও নিরাপত্তার দিক থেকে গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ ডেনমার্ক সেখানে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করেনি। সেই কারণেই দ্বীপটির দায়িত্ব আমেরিকার হাতে থাকা উচিত বলে দাবি ট্রাম্পের।
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবি সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে ডেনমার্ক। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড কোনওভাবেই বিক্রির জন্য নয়। তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র সেখানকার মানুষের। ডেনমার্ক তার সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় অটল থাকবে। সব মিত্র দেশের কাছে থেকেও সেই সম্মান প্রত্যাশা করে।’
ফ্রেডেরিকসেন আরও মনে করিয়ে দেন, ন্যাটোর মূল নীতিই হল সদস্য দেশগুলির নিরাপত্তা ও ভূখণ্ড রক্ষা করা। ন্যাটো চুক্তির পঞ্চম অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনও সদস্য দেশের উপর হামলা হলে তা গোটা জোটের উপর হামলা বলে গণ্য হবে। তাই ডেনমার্ক নিজেদের ভূখণ্ডের প্রতিটি অংশ রক্ষা করতে প্রস্তুত।’
আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টরুন মিয়োল ফ্রস্টাডোটিরও ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন সেখানকার বাসিন্দারাই। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চান না। এক্ষেত্রে তাঁদের মতামতই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের এই আগ্রহ নতুন নয়। দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই তিনি বারবার দাবি করে এসেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। কয়েক মাস আগে সেখানে ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেই সময় সেই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল কানাডা। এরপর ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে কানাডার সমালোচনা করে দাবি করেন, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুধু আমেরিকাকেই নয়, কানাডাকেও সুরক্ষা দেবে।
উল্লেখ্য, প্রায় ৫৬ হাজার জনসংখ্যাবিশিষ্ট গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। প্রায় তিন শতাব্দী ধরে এই দ্বীপটি ডেনমার্কের অধীনে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশাসন স্বশাসিত কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে থাকলেও প্রতিরক্ষা ও বিদেশনীতি ডেনমার্ক সরকারের নিয়ন্ত্রণে।
ন্যাটো সম্মেলনে গ্রিনল্যান্ডের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ব্যয়, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে আসে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, ইউরোপের মিত্র দেশ ও কানাডা আগামী সময়ে প্রতিরক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে সম্মেলনের সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ট্রাম্পের মন্তব্য এবং তার পাল্টা জবাবে ডেনমার্কের কঠোর অবস্থান।