২০২৬ সালের আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং তার দল রিপাবলিকান পার্টি। সেনেট দখল করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবির। পাশাপাশি একাধিক রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনে দখল করেছে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভসের দখলও কার্যত তাদের হাতের নাগালের মধ্যে। নির্বাচনের এই ফলাফল ট্রাম্পের প্রশাসনের আগামী দিনের রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের মেয়াদের শেষ দু’বছরে কংগ্রেসে বিরোধীদের মোকাবিলা করতে হবে ট্রাম্পকে (Donald Trump) ।
সারা দেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়েই সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য টেক্সাসে তাদের ঐতিহাসিক জয়। ওই রাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে সেনেটের আসন দখল করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো। কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম টেক্সাস থেকে মার্কিন সেনেটে কোনও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয়ী হলেন। এ ছাড়াও সাউথ ক্যারোলাইনা এবং কানসাসের মতো রিপাবলিকান প্রভাবিত রাজ্যগুলিতেও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে বিরোধী শিবির।
একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে হার রিপাবলিকানদের
টেক্সাসে ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া কেন প্যাক্সটনকে হারিয়েছেন জেমস তালারিকো। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে রাজ্যে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প (Donald Trump) , সেখানেই ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্য দিকে, ওহায়োতে প্রাক্তন ডেমোক্র্যাট গভর্নর শেরড ব্রাউন হারিয়েছেন রিপাবলিকান সেনেটর জন হাস্টেডকে। ফলে ফের সেনেটে ফিরছেন ব্রাউন। জর্জিয়াতেও নিজের আসন ধরে রাখতে সফল হয়েছেন ডেমোক্র্যাট সেনেটর জন অসফ। প্রথাগত ভাবে রিপাবলিকান প্রভাবিত রাজ্যগুলিতে ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্য উচ্চকক্ষে তাদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে।
হাউসের দখল নিয়েও বাড়ছে জল্পনা
সেনেটের পাশাপাশি হাউস অফ রিপ্রেজ়েনটেটিভসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও জোর লড়াই চলছে। নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাওয়ার ম্যাজিক ফিগারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সেখানে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখার ক্ষমতা অনেকটাই বাড়বে। প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত করার ক্ষমতাও চলে আসবে তাদের হাতে। পাশাপাশি, প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন নীতি এবং আইন প্রণয়নের প্রস্তাব আটকে দেওয়া বা বিলম্বিত করার সুযোগও পাবে বিরোধীরা।
এত দিন কংগ্রেসের দুই কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় ট্রাম্পের পক্ষে নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা তুলনামূলক সহজ ছিল। নিম্নকক্ষ রিপাবলিকানদের হাতে চলে এলে আগামী দু’বছর আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে বিরোধীদের বাধার মুখে পড়তে পারেন তিনি।
খরচ, ইরান যুদ্ধও ভোটের বড় ইস্যু
এ বারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আমেরিকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি, শুল্কনীতি এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। নির্বাচনের পর প্রকাশিত একাধিক এক্সিট পোলের ফলাফলেও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষের ইঙ্গিত মিলেছে।
এক্সিট পোল অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় কংগ্রেসের আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। অন্য দিকে, প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার দেশে পণ্যের চড়া দামের জন্য ট্রাম্পকেই দায়ী করেছেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক্সিট পোলেও উঠে এসেছে একই ধরনের অসন্তোষের ছবি। প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ অথবা অসন্তুষ্ট। ট্রাম্পের কাজকর্মে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার। পাশাপাশি, প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার অর্থনীতিকেই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু বলে চিহ্নিত করেছেন। ফলে ভোটের ফলাফলে অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে নাসার বিশাল অকেজো উপগ্রহ, ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়তে পারে ভারতে
ভেটো প্রয়োগের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
নির্বাচনে ধাক্কার মুখে পড়লেও ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাবিত নীতির বিরুদ্ধে নিজের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প (Donald Trump) । প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে বিরোধীদের আনা প্রস্তাব আটকে দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ছবিতে লাল রঙের একটি রিপাবলিকান টুপিতে লেখা রয়েছে ‘ভেটো’।
সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় এবং হাউসের ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসে বিরোধীদের বাধার মুখে পড়ে আগামী দু’বছর নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং নীতিগুলি বাস্তবায়ন করতে কতটা সফল হন ট্রাম্প (Donald Trump) , এখন সেটাই দেখার।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/eb8_EaSGfOk?si=SkHmJemdDJpGLqf-” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>