ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর কেটে গিয়েছে কয়েকটা দিন। এখনো পর্যন্ত চলছে ভেনেজুয়েলাজুড়ে চলছে উদ্ধারকাজ। রবিবারও উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া জীবিতদের খোঁজ চালিয়ে গিয়েছে। এদিকে, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৪৫০ জনে। নতুন করে একের পর এক আফটারশকের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
গত বুধবার ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। এখনও পর্যন্ত শত শত আফটারশক অনুভূত হয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, বড় দু’টি ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ৪৩০টি হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত ৩ হাজার ২৩৮ জন আহত হয়েছেন এবং ৩ হাজার ১৪২টি পরিবার এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে রদ্রিগেজ বলেন, হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী দিন-রাত এক করে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভেনেজুয়েলার সিসমোলজিক্যাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, শনিবার দেশের মধ্যাঞ্চলে ৪.১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানীর কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী লা গুয়াইরার পশ্চিমে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে। বুধবার ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর এই এলাকাকে ইতিমধ্যেই দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে।
মাত্র ৫ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পন হওয়ায় ভূ-পৃষ্ঠে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয়। রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকার বহু বাসিন্দা আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষ রাষ্ট্রপতি কমিশন গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও ঘোষণা করেন, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজ চলায় দেশের স্কুলগুলো আরও এক সপ্তাহ বন্ধ থাকবে। তবে দুর্যোগের মধ্যেও আশার খবর মিলেছে। রদ্রিগেজ জানান, কারাবাল্লেদা এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১১ বছর বয়সি এক শিশুকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি জীবনই ভেনেজুয়েলার জন্য নতুন আশার প্রতীক।‘
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়েছে, ধসে পড়া ভবনের ভিতরে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করতে এক মার্কিন মেরিন সদস্যও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। সংস্থার বক্তব্য, দিন-রাত নিরবচ্ছিন্নভাবে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ করছে এবং মার্কিন বিদেশমন্ত্রকের নেতৃত্বে পরিচালিত মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতেও মার্কিন সামরিক বাহিনী সহায়তা করছে।