পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার আবহে হরমুজ প্রণালী ঘিরে বড় ঘোষণা করল ইরান। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে তেহরান জানিয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই, সেই দেশগুলির জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের কোনও জাহাজ এই সুবিধা পাবে না।
একই বার্তা পাঠানো হয়েছে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন বা আইএমও-কেও।ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, যে সমস্ত জাহাজকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না, তাদের ক্ষেত্রেই এই ছাড় প্রযোজ্য হবে। তবে শর্ত হল, এজন্য আগাম ইরান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে হবে, কোনওভাবেই ইরানবিরোধী সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা যাবে না এবং তেহরানের নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজকে ঘিরে এই অবস্থান মূলত আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল। কারণ, এই জলপথ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান জলপথ। ফলে এখানকার নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের দিকেও পাল্টা শর্ত ছুড়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গুলো বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে হলে ইরানকে অর্থ দিতে হবে। পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইরানের সামনে ১৫ দফা শর্ত রেখেছেন, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং পরমাণু কর্মসূচিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে এবং ইতিবাচক সাড়া মিলছে।
তবে পাল্টা শর্ত আর কড়া অবস্থানের জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আপাতত কূটনীতি ও শক্তি প্রদর্শনের এই টানাপোড়েনে নজর আন্তর্জাতিক মহলের—কবে এবং কীভাবে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতির পথে এগোবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।