মার্কিন তদন্তকারীদের মতে, অন্তত ২০১৮ সাল থেকেই এই পরিকাঠামো ব্যবহার করে আমেরিকা-সহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কে হামলা চালানো হচ্ছিল। কিউস্ক্যানের মাধ্যমে রাউটার ও অন্যান্য ইন্টারনেট-সংযুক্ত যন্ত্র খুঁজে বার করে সেগুলিতে অনুপ্রবেশ করা হত। পরে কিউটিরাউটারের মাধ্যমে সেই ডিভাইসগুলিকে একটি নেটওয়ার্কে যুক্ত করে আক্রমণ চালানো হত। এর ফলে হ্যাকারদের আসল অবস্থান গোপন রাখা সহজ হত। তদন্তকারীদের দাবি, বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশে থাকা ডিভাইস ব্যবহার করে নিজেদের গতিবিধি আড়াল করত তারা।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৯-এর আগস্টে নাসার নেটওয়ার্কে ঢোকার চেষ্টা করেছিল হ্যাকাররা। পরে ২০২৪-এর সেপ্টেম্বরে মার্কিন শক্তি দপ্তরের ৩টি গবেষণাগার, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ বা এনআইএইচ, স্বাস্থ্য ও মানব পরিষেবা দপ্তর বা এইচএইচএস এবং একটি মার্কিন নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থার নেটওয়ার্কে সফল ভাবে ঢোকার অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ, মার্কিন সিনেট এবং আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার আরও কয়েকটি সংস্থাকেও নিশানা করা হয়েছিল।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযানটি ব্যাহত করতে কিউস্ক্যান ও কিউটিরাউটার ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত ডোমেনগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর ফলে হ্যাকারদের ওই প্ল্যাটফর্মে প্রবেশে বাধা তৈরি হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সমস্ত সাইবার কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, হামলার উৎসকে অন্য দেশের কম্পিউটার বা লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি কোনও ডিভাইস বলে দেখাতে পারলে তদন্তকারীদের পক্ষে আসল হ্যাকারদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে যায়। এত বড় দুটি প্ল্যাটফর্ম নিষ্ক্রিয় হওয়ায় হামলাকারীদের নিয়মিত ব্যবহৃত পরিকাঠামোতে বড় ধাক্কা লেগেছে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।
গত কয়েক বছরে একাধিকবার চিনা হ্যাকারদের নিশানায় এসেছে আমেরিকার সরকারি ও বেসরকারি নেটওয়ার্ক। গত মার্চেও এফবিআই মার্কিন কংগ্রেসকে তাদের নেটওয়ার্কে বড় সাইবার হামলার কথা জানিয়েছিল। সরকারি সংস্থার পাশাপাশি কংগ্রেস এবং একাধিক বড় টেলিকম সংস্থার নেটওয়ার্কেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ ঘটনায় বেজিংয়ের সরকারি মদতের অভিযোগ তুললেও চিনা সরকার এখনও এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।