২০২০ সালের জুন মাসে কেঁপে উঠেছিল কাজাখস্তান। সেই মৃদু কম্পন ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মধ্য এশিয়ার ওই অঞ্চলে কম্পনের সিগন্যাল ধরা পড়েছিল পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার উপর নজরদারি চালানো সংস্থা ‘কম্প্রিহেনসিভ নিউক্লিয়ার টেস্ট ব্যান ট্রিটি অর্গানাইজেশন’-এর সিসমিক নেটওয়ার্কে।
তবে সম্প্রতি আমেরিকার কয়েক জন শীর্ষ আধিকারিক দাবি করেছেন, সেটি ভূমিকম্প নয়, বরং চিনের গোপন পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা হতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, কম্পনের উৎস অনুসন্ধান করে দেখা গিয়েছে যে সিগন্যালটি জিনজিয়াং প্রদেশের লোপ নুর এলাকা থেকে এসেছে, যা কাজাখস্তান থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে।
আমেরিকার উপবিদেশসচিব ক্রিস্টোফার ইয়াওয়ের দাবি, ওই ধরনের কম্পন বিস্ফোরণজনিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ক্রিস্টোফার ইয়াও বলেন, ‘২০২০ সালের ২২ জুন কম্পনের উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, জায়গাটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটার (কাজাখস্তান থেকে) দূরে রয়েছে। ওটা বিস্ফোরণ ছাড়া অন্য কিছু হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।‘
যদিও এই বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন আনুষ্ঠানিক ভাবে সরাসরি মন্তব্য করেনি, তবু মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি ঘিরে জল্পনা তীব্র হয়েছে। অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সমালোচনা এড়াতে অত্যন্ত গোপনে ভূগর্ভস্থ পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।
অন্য দিকে, চিন এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চিনা দূতাবাসের মুখপাত্রের দাবি, আমেরিকাই নাকি ভবিষ্যতে পরমাণু পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সেই কারণেই বেজিংয়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরাশক্তির মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে চড়তে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের আশঙ্কা।