পাকিস্তানে শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালে দেশে মোট ৩৬৩০টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি।
শিশু সুরক্ষা সংস্থা ‘সাহিল’-এর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর প্রতিদিন গড়ে ৯ জনেরও বেশি শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে পাকিস্তান। রিপোর্টে শুধু শিশু নির্যাতন নয়, লিঙ্গভিত্তিক হিংসার ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে। ২০২৫ সালে এই ধরনের অপরাধ প্রায় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সমাজের দুর্বল অংশের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, বিচার প্রক্রিয়াতেও বড় ফাঁকফোকর রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক সংখ্যালঘু অধিকার সংস্থা পাঞ্জাব প্রদেশের একাধিক ঘটনার দিকে আঙুল তোলে। তাদের দাবি, অসংখ্য শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দোষীরা শাস্তি পায়নি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাঞ্জাবের ফয়সালাবাদ জেলায় ৪৫টি থানায় মোট ৬৬৩টি যৌন নির্যাতনের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যেখানে প্রায় ৯৮৯ জন সন্দেহভাজনের নাম উঠে এসেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত একটি মামলাতেও দোষী সাব্যস্ত হয়নি কেউ। সংখ্যালঘু অধিকার কর্মীদের মতে, দুর্বল তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহে গাফিলতি এবং আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা— এই সব কারণেই বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, না হলে শিশুদের নিরাপত্তা আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।