লাহোরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ কানাডার গবেষক, চাপে পাকিস্তানের

পাকিস্তানের লাহোর শহর থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন কানাডার এক নাগরিক। ঘটনার পাঁচ দিন কেটে গেলেও এখনও তাঁর কোনও হদিশ পায়নি পুলিশ। এই ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নিখোঁজ ওই ব্যক্তির নাম হামজা আহমেদ খান। তিনি একজন গবেষক। সম্প্রতি উচ্চতর গবেষণার কাজের জন্য পাকিস্তানে এসেছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে লাহোরের বাসস্থান থেকে বেরোনোর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।

পরিবারের অভিযোগ, হামজা ১৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে পৌঁছেছিলেন। তিনি লাহোরের একটি আবাসিক এলাকায় বন্ধুর সঙ্গে থাকছিলেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ১টা থেকে ২টার মধ্যে তিনি একটি ভাড়ার গাড়ি ডেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। হামজার বন্ধু ইউসুফ রশীদ থানায় অভিযোগ দায়ের করে জানান, তাঁরা নিজেরাই প্রথমে হামজাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনও খোঁজ না পাওয়ায় তিনি অপহরণের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এরপরই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

হামজার ভাই আওয়াইস আহমেদ খান জানিয়েছেন, তাঁরা ক্যাব পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সংস্থার তরফে জানানো হয়, যাত্রাপথের মাঝখানে ক্যাব পরিষেবা বাতিল করা হয়েছিল। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরিবারকে দেওয়া হয়নি। পরিবারের দাবি, পুলিশ এখনও পর্যন্ত যথাযথভাবে তদন্তে সহযোগিতা করেনি।


পরিবারের কাছে থাকা নজরদারি চিত্রে দেখা গিয়েছে, হামজা একটি বাড়িতে এক তরুণীকে নামিয়ে দিয়ে নিজের বাসস্থানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আর সেখানে পৌঁছননি। এই ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। বিভিন্ন সূত্র ধরে খোঁজ চালানো হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁরা কানাডার দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করার পরিকল্পনা করছেন। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবেন। এদিকে এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরেও যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রহস্য উন্মোচনে দ্রুত তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে।