নেপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন সাত জন ভারতীয় পুণ্যার্থী। শনিবার সন্ধ্যায় গোর্খা জেলার কান্তার এলাকায় একটি ছোট বাস প্রায় ৫০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে গিয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসটিতে মোট অন্তত ১৪ জন যাত্রী ছিলেন এবং তাঁরা সবাই ভারতীয় নাগরিক।
গোর্খা জেলা পুলিশের ডেপুটি সুপার রাজকুমার শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, পুণ্যার্থীরা মনকামনা মন্দিরে পুজো দিয়ে ফেরার পথে ছিলেন। সেখান থেকে তাঁরা তানাহুন জেলার আনবুখাইরেনির দিকে যাচ্ছিলেন। তবে ঠিক কোন উদ্দেশ্যে তাঁরা সেখানে যাচ্ছিলেন বা কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাত জন ভারতীয়। তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত চিতওয়ান জেলার একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুথু কুমার (৫৮), আনামালিক (৫৮), মীনাক্ষী (৫৯), শিবগামী (৫৩), বিজয়াল (৫৭), মিনা (৫৮) এবং তামিলারসি (৬০)। প্রত্যেকেই তীর্থযাত্রার উদ্দেশে নেপালে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
নেপালে গত কয়েক বছরে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। পাহাড়ি দেশ হওয়ায় এখানকার বেশিরভাগ রাস্তা সরু, বাঁকানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণও হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নেপাল ট্রাফিক পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশটিতে মোট সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৪,৯৯৯। সেই সংখ্যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭,৬৬৯-এ। অর্থাৎ এক দশকের মধ্যেই দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুধু প্রাণহানিই নয়, দুর্ঘটনার কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নেপালে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে হওয়া আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি দুর্গম রাস্তা, দুর্বল পরিকাঠামো এবং যানবাহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে নেপালে সড়ক দুর্ঘটনা এখন একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।