শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেটে কাটছাঁট, প্রতিবাদে প্রবল ছাত্রবিক্ষোভ ফ্রান্সে, গ্রেপ্তার ২ হাজারেরও বেশি 

Photo: Facebook

শিক্ষাখাতে সরকারি বরাদ্দ কমানো, শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের অভাব এবং জরাজীর্ণ স্কুলভবন, এমন একাধিক অব্যবস্থার প্রতিবাদে উত্তাল ফ্রান্স। প্যারিস থেকে শুরু হওয়া ছাত্রবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বড় শহরগুলিতেও। শুক্রবারও বহু স্কুলে পড়ুয়ারা ঢোকার পথ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান। কোথাও ভাঙচুর তো কোথাও আবার অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভকারীদের একাংশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ২ হাজারের বেশি পড়ুয়া ও বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই প্যারিসে এই প্রতিবাদ আন্দোলনে নামেন পড়ুয়ারা। এই আন্দোলন ধীরে ধীরে মঁপেলিয়ে, মার্সেই, লিয়ঁ, নঁত, লিল-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার অন্তত ৪০০টি স্কুল বন্ধ ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। অনেক স্কুলের প্রবেশপথে ব্যারিকেড তৈরি করেন পড়ুয়ারা। কোথাও আবর্জনার পাত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করতে হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে স্কুলের পরিকাঠামোয়। অনেক জায়গায় প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম। শ্রেণিকক্ষেও পড়ুয়ার সংখ্যা বেশি। কোথাও স্কুলভবন জীর্ণ তো কোথাও আবার গরমের সময়ে ক্লাস করার মতো উপযুক্ত পরিবেশ নেই। শিক্ষকদের বেতন ও কাজের পরিবেশ, শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক বৈষম্য এবং পড়ুয়াদের জন্য ভর্তুকি কমানো নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে তাঁদের।


এই ক্ষোভের মধ্যেই ২০২৭ সালের বাজেটে সরকারি খরচ প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ইউরো কমানোর প্রস্তাব করেছে ফরাসি সরকার। বৃহস্পতিবার বাজেট কাটছাঁটের কথা ঘোষণার পরই বিক্ষোভ আন্দোলন আরও তীব্র আকার নেয়। মার্সেইয়ে ভিক্টর হিউগো স্কুলে বিক্ষোভের সময় আবর্জনার পাত্রে গ্যাসোলিন ঢালার ঘটনা ঘটে। কয়েকজন শিক্ষকের গায়েও গ্যাসোলিন পড়ে যায়।

অন্য একটি স্কুলের সামনে বিক্ষোভকারীদের তাড়া খেয়ে দমকলকর্মীরা গাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই দমকলের গাড়িটিতে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে খবর। সরকারের তরফে অবশ্য অভিযোগের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, শিক্ষক সংগঠন, অভিভাবক এবং ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হবে। তবে তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের মধ্যে বহিরাগতরাও ঢুকে অশান্তি তৈরি করছেন।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কারে হামলা, নিরাপদে উদ্ধার ৫ ভারতীয় নাবিক

বিচারমন্ত্রী জেরার্ড দারমানিনও বলেছেন, পরিস্থিতি এখন আর শুধু স্কুলপড়ুয়াদের বিক্ষোভে সীমাবদ্ধ নেই। আইনশৃঙ্খলার উপরও তার প্রভাব পড়ছে।