হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ! ব্রিটেনের সামরিক বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোরে ওমানের উপকূল হয়ে যাওয়ার সময় ট্যাঙ্কারটির সঙ্গে কোনও একটি বস্তুর ধাক্কা লাগে ৷ তারপরই তাতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় ৷ বিস্ফোরণের নেপথ্যে ইরানের হাত আছে বলে দাবি করেছে একাধিক মহল ৷ তেহরানের তরফ থেকে এখনও এ ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি ৷
ব্রিটেনের সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন সেন্টার জানিয়েছে, জাহাজটি ওমানের লিমা নামক জায়গায় ওই বস্তুটির সঙ্গে ধাক্কা খায় ৷ তবে এই বিস্ফোরণের ফলে পরিবেশগত কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি ৷
মধ্যপ্রাচ্য়ের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে হরমুজ ৷ 28 ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলার দিন থেকেই হরমুজ বন্ধ করে দেয় ইরান ৷ বিশ্বের জ্বালানি 20 শতাংশ এই প্রণালী পেরিয়ে বিভিন্ন দেশে যায় ৷ হরমুজ বন্ধ হওয়ার প্রাথমিকভাবে জ্বালানির তীব্র সঙ্কট তৈরি হয় ছোটবড় বিভিন্ন দেশে ৷ দামও বাড়ে অনেকটা ৷ সংঘাত বন্ধ করার ক্ষেত্রেও হরমুজ খোলার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে ৷
শেষমেশ সামরিক সংঘাত থেমেছে ৷ টালবাহানা শেষে হরমুজও খুলেছে ৷ কিন্তু তাতেও যে সমস্ত সংঘাতের অবসান হয়ে গিয়েছে তা নয় ৷ ইরান প্রথম থেকেই জানিয়ে আসছে হরমুজ তারা খুলে দিতে রাজি কিন্তু এই প্রণালীর কর্তৃত্ব তাদের হাতেই থাকবে ৷ প্রাণালী অতিক্রম করতে গেলে দিতে হবে টাকাও ৷ পরে অবশ্য় ইরান প্রশাসনের এক শীর্ষকর্তা জানান তাঁরা যে সমস্ত দেশকে বন্ধু মনে করেন তাদের জাহাজ বিনা খরচেই হরমুজ পেরিয়ে যেতে পারবে ৷ এই ব্যবস্থায় কোনও বদল আসছে না ৷
কিন্তু সে সব হবে যুদ্ধ পাকাপাকিভাবে শেষ হওয়ার পর ৷ এখন হরমুজ নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের একটি চুক্তি আছে ৷ তা হল দুমাস কোনও খরচ ছাড়াই যে কোনও জাহাজ হরমুজ প্রণালী ধরে গন্তব্যে যেতে পারবে ৷ এরইমধ্যে ঘটল ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণের ঘটনা ৷ কয়েকদিন আগে প্রণালী ধরে গন্তব্যের দিকে যাওয়া জাহাজগুলির জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল ইরানের সামরিক বাহিনীর তরফে ৷
বিবৃতি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়, প্রতিটি জাহাজকে আগে থেকে ঠিক করে দেওয়া রুট ধরে যেতে হবে ৷ যাত্রা পথে আচমকা কোনও বদল ঘটালে বাহিনী কড়া জবাব দেবে ৷ এখানেও তেমন কিছু হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয় ৷ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে ৷ সেদিন ইরানের সামরিক বাহিনীর তরফে আরও বলা হয়েছিল, হরমুজে আমেরিকার সামরিক বাহিনী নাক গলাতে এলে পরিণাম হবে ভয়াবহ ৷
UKMTO WARNING 080-26 – ATTACK
Click here to view UKMTO Products⤵️ https://t.co/Oc7hGsk3Do#MaritimeSecurity #MarSec pic.twitter.com/uK8cm9a76M
— UKMTO Operations Centre (@UK_MTO) July 6, 2026
এরইমধ্য়ে দিন কয়েক আগে সাংবাদিকদের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মধ্য়প্রাচ্য়ের যুদ্ধ শেষ করতে আমেরিকার প্রায় সব দাবি মেনে নিয়েছে ইরান ৷ যুদ্ধ বন্ধ হওয়া এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা ৷ ওয়াশিংটন সমস্তভাবে নিশ্চিত করেছে যাতে তেহরান কোনওভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে ৷ প্রথম থেকে এটাই ছিল আমেরিকার প্রধান লক্ষ্য ৷
এরপর আয়তুল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের উপাচার শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার জন্য এত মানুষের চোখে জল ফেলছেন ভেবে তাঁর অবাক লাগছে ৷ খামেনেই যে এতটা জনপ্রিয় ছিলেন সেটা জানা ছিল না ট্রাম্পের ৷ এরপর তাঁর সংযোজন খামেনেইয়ের মৃত্যুতে যারা শোকজ্ঞাপন করতে গিয়েছেন তাঁদের তিনি এক নিশানায় শেষ করে দিতে পারেন ৷ কিন্তু করবেন না ৷ কারণ, তাহলে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধ করতে আলোচনা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো আর কেউ থাকবে না ৷