ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। সেই ক্ষত এখনও শুকোয়নি। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার জোরালো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তিব্বত। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৫। ভারতীয় সময় দুপুর ১টা ৪৬ মিনিট নাগাদ কম্পন অনুভূত হয়। জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের হিসাবে ভূমিকম্পটির উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৪ কিলোমিটার গভীরে। এখনও পর্যন্ত এই কম্পনে কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে ১ সপ্তাহের মধ্যে ফের এমন কম্পনে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেসের হিসাবে ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। তিব্বতের পাশাপাশি নেপালের বিভিন্ন এলাকা এবং চিনের দক্ষিণাংশেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভারতের উত্তরাখণ্ডের কিছু এলাকাতেও কম্পন টের পাওয়া গিয়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১১৬ কিলোমিটার দূরের জোশীমঠেও মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই কম্পন ঘিরে উদ্বেগের অন্যতম কারণ গত ২৬ আগস্টের বিপর্যয়। নেপাল-চিন সীমান্তে হিমবাহের বিশাল অংশ ধসে পড়ার পরে পাহাড়ি নদীগুলিতে আচমকা জল, কাদা ও পাথরের স্রোত নেমে আসে। ভোটেকোশী এবং ত্রিশূলী নদীর ভয়াল স্রোতে মুহূর্তে ভেসে যায় জনপদ, রাস্তা, সেতু, বাড়িঘর ও অন্যান্য পরিকাঠামো। বিপর্যয়ের এক সপ্তাহ পরেও শেষ হয়নি উদ্ধারকাজ। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে হাজার। নিখোঁজ রয়েছেন চার হাজারেরও বেশি মানুষ। সীমান্তের চিনা অংশেও বহু মানুষ হতাহত ও নিখোঁজ।
বিপর্যয়ের পর থেকেই আশঙ্কা ছিল পাহাড়ে জমে থাকা জল ফের নতুন বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, হিমবাহ ধসের ফলে পাহাড়ের বিভিন্ন খাঁজে ছোট-বড় অস্থায়ী হ্রদ ও জলাধার তৈরি হয়েছে। সেগুলিতে বিপুল পরিমাণ জল জমে রয়েছে। কোনও প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে সেই জল হুড়মুড়িয়ে নেমে এসে ফের হড়পা বান তৈরি করতে পারে। নতুন ভূমিকম্পে সেই আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
শুধু নেপাল নয়, হিমালয়ের অন্য অংশ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পশ্চিম সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমিধসের জেরে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সিকিমে একশোরও বেশি হিমবাহ হ্রদ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত হিমবাহ গলার ফলে এই হ্রদগুলিতে জলের পরিমাণ বাড়ছে। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা কোনও হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে সিকিমের নিচু উপত্যকাগুলিতেও ভয়াবহ হড়পা বান নেমে আসতে পারে।
আরও পড়ুন: মাঝ আকাশে মে-ডে কল পাইলটের, জরুরি অবতরণ ইন্ডিগোর বিমানের
তাই বৃহস্পতিবারের ভূমিকম্পে আপাতত কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হলেও স্বস্তির পাশাপাশি সতর্কতাও জারি রয়েছে। হিমালয়ের ভঙ্গুর ভূপ্রকৃতি এবং বিপুল পরিমাণ জমে থাকা হিমবাহের জল, এই দুইয়ের সমীকরণে নতুন বিপর্যয়ের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দিতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা।