বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারিকের সামনে কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছেন তারিক রহমান। বিশেষ করে আমেরিকা ও চিন— এই দুই শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে ভারসাম্য রক্ষা করা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাপানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তির কঠোর শর্ত বাংলাদেশের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা তারিক রহমানের জন্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জটিল কৌশলের বিষয় হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একদিকে আমেরিকা বাংলাদেশকে বাজারে প্রবেশের সুযোগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, চিন বাংলাদেশকে পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প সম্প্রসারণ এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা করছে।


আমেরিকার শীর্ষ আদালত বাংলাদেশের আগের কিছু শুল্ক নীতি বাতিল করলেও, নতুন বাণিজ্য চুক্তির শর্তে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে যে, ওয়াশিংটন চায় না ঢাকা অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ুক। যদি বাংলাদেশ চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে শুল্ক আবার বাড়িয়ে ১৯ শতাংশ থেকে ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া আমেরিকার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নীতিতেও বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে হতে পারে। ভবিষ্যতে আমেরিকা যদি জাতীয় নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক কারণে নতুন বাণিজ্য ব্যবস্থা চালু করে, তাহলে বাংলাদেশকে সেই বিষয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

প্রসঙ্গত, চিন ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুবিধাও দিয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে চিনের কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ বাংলাদেশের শিল্প ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

ঢাকার গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের এক গবেষক জানিয়েছেন, বর্তমান বিশ্বে বড় শক্তিগুলির প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্কভাবে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ আমেরিকার উপর রপ্তানি নির্ভরতা যেমন বেশি, তেমনি শিল্পক্ষেত্রে চিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করবে নতুন প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এই দুই শক্তিশালী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেন তার উপর।