ইরান যুদ্ধের জেরে বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান

পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের জেরে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করল এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস। সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, জ্বালানি আমদানির উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হওয়ায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহে বাধা তৈরি হলে এই দেশগুলির অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তাদের সার্বভৌম ঋণের মান বা ক্রেডিট রেটিংও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এই দেশগুলির অর্থনীতিতে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিললেও জ্বালানির দাম বাড়লে সেই পুনরুদ্ধারের গতি থমকে যেতে পারে। বাণিজ্য ও প্রবাসী আয়ের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে স্বল্পমেয়াদে এই ধাক্কা সামাল দেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের উপর চাপ বাড়বে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের তেল সরবরাহ প্রায় সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর। দেশের মজুত তেল এক মাসেরও কম সময়ের জন্য যথেষ্ট। ফলে আমদানি ব্যাহত হলে ব্যবহার কমানোর জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।


এছাড়া দেশের প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ উৎপাদন গ্যাসনির্ভর, যার একটি বড় অংশ আমদানি করা হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বড় প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশে মূল্যবৃদ্ধির হারও উদ্বেগজনক। জানুয়ারিতে ৮.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে তা ৯.২ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের রাজস্ব সংগ্রহের হার মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় এখনও অনেক কম, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার কিছুটা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২৯.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদি সংকটে তা চাপের মুখে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশগুলির অর্থনীতি নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।