পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর গদরে পাকিস্তান কোস্ট গার্ডের শিবিরে আত্মঘাতী হামলা কমপক্ষে ৩০ জন নিরাপত্তা রক্ষী নিহত। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মির দাবি এই দাবি করেছে। হামলার দায়ও তারা স্বাকীর করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান বা সেনাবাহিনীর তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
বিএলএ-র দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ বিস্ফোরক ভর্তি একটি ট্রাক সেনা শিবিরে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়। তীব্র বিস্ফোরণে শিবিরের একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর বালোচ বিদ্রোহীরা সেনা শিবিরে ঢুকে অভিযান চালায়। সংগঠনের দাবি, বহু সেনাকর্মী আহত হয়েছেন এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে বিএলএ-র বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। তাদের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের জেরে উপকূলরক্ষী বাহিনীর শিবির কার্য ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
হামলার পর বিএলএ একটি ৪৩ সেকেন্ডের ভিডিও প্রকাশ করেছে। সংবাদসংস্থা এএনআই-এর দাবি, ওই ভিডিওতে বিস্ফোরণের ঠিক আগে বিস্ফোরক বোঝাই ট্রাকটিকে শিবিরের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে। তবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক স্টেটসম্যান। সংগঠনটি জানিয়েছে, হামলাকারীর নাম আত্তাউল্লা বালোচ, ওরফে আজমল। তাদের বক্তব্য, বালোচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিতে এই লড়াই চলবে। ভবিষ্যতে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আরও তীব্র হামলা চালানো হবে।
২০২৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র বিএলএ-কে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। পাকিস্তানেও সংগঠনটি নিষিদ্ধ। অতীদেও একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে বিএলএ। পাকিস্তান বরাবরই দাবি করে এসেছে, এই গোষ্ঠী ভারতের মদতে কাজ করছে। তবে সেই অভিযোগের পক্ষে তারা কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি। ভারত সরকারও বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সম্প্রতি ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন অন্য দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার বদলে পাকিস্তানের নিজের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে আত্মসমালোচনা করা উচিত। এদিকে শুক্রবারের এই হামলার ঘটনা এবং হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেনি।