ইতিহাস গড়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ, সংবিধানের বিশেষ ধারায় নিয়োগ

নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বালেন্দ্র শাহ। রাজধানীর শীতল নিবাসে রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাওডেলের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। নেপালের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম সংবিধানের নির্দিষ্ট ধারার প্রয়োগে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হল। একই সঙ্গে এই প্রথম মধেসি সম্প্রদায়ের কোনও ব্যক্তি দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে বসলেন, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বালেন্দ্র শাহ সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পদত্যাগ করেন। পূর্ব নেপালের ঝাপা কেন্দ্র থেকে তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে প্রায় পঞ্চাশ হাজার ভোটে পরাজিত করে নজির গড়েন। সংসদে প্রবেশের পরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন। শপথ নেওয়ার পরই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তর নিজের কাছেই রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা এবং শিল্প দপ্তরের দায়িত্ব তিনি নিজেই সামলাবেন বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে অর্থ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বর্ণিম ওয়াগলেকে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরে রয়েছেন সুধান গুরুং এবং বিদেশ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন শিশির খানাল। পরিকাঠামো, পরিবহণ এবং নগর উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন সুনীল লামসাল। শক্তি, জলসম্পদ এবং সেচ দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ। পর্যটন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খাদকরাজ পাওডেলকে। শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং যুব ও ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন সাসমিত পোখরেল। স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্বে নিশা মেহতা। তথ্য ও যোগাযোগ দপ্তরের দায়িত্বে বিক্রম তিমিলসিনা।


প্রশাসনিক দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রতিভা রাওয়াল। শ্রম ও কর্মসংস্থান দপ্তরে রয়েছেন দীপক সাহ। আইন দপ্তরের দায়িত্বে সোবিতা গৌতম। কৃষি, বন ও পরিবেশ দপ্তরের দায়িত্বে গীতা চৌধুরী এবং মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন সীতা বাদি। নতুন এই মন্ত্রিসভা নিয়ে নেপালের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ নেতৃত্ব এবং বৈচিত্র্যময় প্রতিনিধিত্ব দেশের শাসনব্যবস্থায় নতুন দিশা দেখাতে পারে।