নেপালের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হতেই রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, তরুণ প্রজন্ম বা জেন জি-র সমর্থনপুষ্ট দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। দলটির নেতা এবং কাঠমাণ্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহ ঝাপা–৫ আসনে এগিয়ে আছেন। এই কেন্দ্রেই তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (ইউএমএল)-এর নেতা কেপি শর্মা ওলি আপাতত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।
প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী, সরাসরি নির্বাচিত ১৬৫টি আসনের মধ্যে প্রায় ৫০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে আরএসপি। অন্যদিকে, ওলির দল ইউএমএল মাত্র পাঁচটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। নেপালের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসও এখনও পর্যন্ত পাঁচটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন গগন থাপা। এ ছাড়া, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহাল, যিনি প্রচণ্ড নামেও পরিচিত, তাঁর দল তিনটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। রুকুম পূর্ব–১ কেন্দ্র থেকে নিজেও এগিয়ে রয়েছেন প্রচণ্ড, যদিও সেখানে নেপালি কংগ্রেসের প্রার্থী তাঁর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন। অন্য দলগুলি মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত দু’টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত সেপ্টেম্বর মাসে ছাত্র ও তরুণদের ব্যাপক আন্দোলনের জেরে কেপি শর্মা ওলির সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল। তার তিন দিন পর নেপালের সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে নির্বাচন কমিশন ৫ মার্চ সংসদ নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে এবং বৃহস্পতিবার সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৬৫টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।
এই নির্বাচনে তরুণদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় ছিলেন বলেন্দ্র শাহ। সেপ্টেম্বরের আন্দোলনে তিনি অন্যতম সমর্থক ছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটেই তিনি ঝাপা–৫ আসনে ওলির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনে আরএসপি চতুর্থ স্থানে ছিল। তবে এবার প্রাথমিক ফলাফলে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে—নেপালের ভোটাররা ধীরে ধীরে পুরনো রাজনৈতিক শক্তির বদলে নতুন নেতৃত্ব এবং নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন।