আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধই, হাসিনার বক্তব্য প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা বিএনপি সরকারের

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফের বাড়ল উত্তাপ। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লিগকে নিয়ে আরও কঠোর অবস্থানের কথা জানাল তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। সরকারের সাফ বার্তা, আওয়ামী লিগ অন্য কোনও নাম, ব্যানার বা পরিচয়ে দেশের কোথাও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকেও শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার পরামর্শ দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার ঢাকার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সেখানেই তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে রিফাইন্ড বা পরিশ্রুত আওয়ামী লিগের কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট। দেশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লিগ কোনও নামেই আর কর্মসূচি করতে পারবে না।’

 


তারেক সরকারের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন দেশে আওয়ামি লিগের সাংগঠনিক তৎপরতা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেতেই  দলনেত্রী শেখ হাসিনাও চলতি বছরের মধ্যেই দেশে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর এই ঘোষণার পর থেকেই আওয়ামি লিগ নতুন করে আরও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। দলীয় কর্মসূচিতে সমর্থকদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।

জাহেদ উর রহমান এদিন আরও জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রেও সংবাদমাধ্যমের উচিত আদালতের নির্দেশিকা মেনে চলা।

অন্যদিকে আওয়ামি লিগের দাবি, দলের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও জনসমর্থন এবং সাংগঠনিক সক্রিয়তা বাড়তে থাকায় বিএনপি সরকার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। যদিও বিএনপির বক্তব্য, তারা আইনের শাসনে বিশ্বাসী এবং সেই কারণেই আওয়ামী লিগকে কোনও ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং আওয়ামি লিগের বাড়তে থাকা সক্রিয়তার আবহে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাত ও অনিশ্চয়তার আবহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।