ভূমিকম্প নয়, তুষারধস থেকেই নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান! মৃত বেড়ে ১৬৫, নিখোঁজ কমপক্ষে ৭৫০

Image: IANS

ভূমিকম্প নয়, তুষারধস থেকেই নেপালের (Nepal Flash Flood) ভোটেকোশী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে(USGS)। বুধবার রাতে সংস্থাটি জানায়, ভূতাত্ত্বিক কম্পনকে প্রথমে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প বলে মনে করা হয়েছিল, সেটি আসলে হিমবাহধসের ঘটনা। বরফ, পাথর ও কাদামাটির বিশাল স্তূপ নদীর গতপথে নেমে আসার পর আচমকা জলপ্রবাহ তৈরি হয় (Nepal Flash Flood)। সেখান থেকেই হড়পা বান নামে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই বিপর্যয়ে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬৫। নিখোঁজ কমপক্ষে ৭৫০। নেপালের পর্যটন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৪৬৮ জন পর্যটকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁদের মধ্যে ৩৯৩ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৭৫ জন নেপালি। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১৪১ জন ভারতীয়। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রী কলকাতার ৩২ জনের একটি দলের খোঁজ নেই। তামিলনাড়ুর ৩৭ জন পর্যটকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের রাসুয়া জেলা। পাশাপাশি নুয়াকোট ও ধাদিং এলাকাতেও বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে। তিব্বতের জিরঙ এলাকাতেও কাদামাটির প্রবল স্রোতে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবর মিলেছে। তিব্বতে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৫৮ জনের খোঁজ নেই।


আরও পড়ুন: জলের তোড়ে ভেসে গেল বন্ধুত্বের সাঁকো, সময় থাকতেও কি চিন সতর্ক করল না নেপালকে? জমাট রহস্য

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার পর আচমকাই ভোটেকোশীর নদীর জলস্তর বাড়তে শুরু করে। স্থানীয় প্রশাসনের অনুমান, তিব্বতের দিক থেকেই বিপুল পরিমাণ জল নেপালে ঢোকে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী প্রথমে জানিয়েছিলেন, সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্পের পর তুষারধস হয় এবং তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই হড়পা বান নামে। তবে ইউএসজিএসের (USGS)পর্যবেক্ষণ ওই সময়ে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে কোনও ভূমিকম্পের প্রমাণ মেলেনি।

ভূবিজ্ঞানীদের মতে, হিমবাহধসের ফলে পাথর ও বরফের স্তূপে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে(Nepal Flash Flood)। সেই বাধার পিছনে জল জমে প্রবল চাপ তৈরি হলে আচমকা বাঁধ ভেঙে বিপুল জল, বরফ, পাথর ও কাদামাটি নিচের দিকে নেমে আসে। এর ফলেই ভয়াবহ হড়পা বান তৈরি হতে পারে।

এই ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা নতুন নয়। ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল(Nepal Flash Flood)। গবেষণায় দেখা যায়, ২০০০ সালের পর হিমালয়ের বরফ গলার গতি ১৯৭৫ থেকে ২০০০ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহের দ্রুত গলন ভবিষ্যতে আরও বেশি হড়পা বান ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন গবেষকরা।

আরও পড়ুন: আচমকা হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপাল , নিখোঁজ ১০৫ জন ভারতীয়

ভোটেকোশী নদী নেপালে প্রবেশের পর ত্রিশুলি নদীতে মিশেছে। ফলে বিপর্যয়ের প্রভাব ত্রিশুলি নদীর তীরপর্তী এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান ও গোর্খা জেলার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে নেপাল সরকার। সেই সঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, তিব্বত থেকে উৎপন্ন ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশের পর ব্রহ্মপুত্র এবং পরে বাংলাদেশে যমুনা নামে পরিচিত। ফলে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহধস ও হড়পা বানের মতো দুর্যোগের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে ভারত ও বাংলাদেশেও পড়তে পারে(Nepal Flash Flood)। তিব্বতে বৃহৎ বাঁধ নির্মাণ নিয়েও তাই নতুন করে পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত প্রশ্ন উঠছে।

দেখুন:বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল, ১০৫ ভারতীয় পর্যটক নিখোঁজ, সাহায্যে জরুরি হেল্পলাইন