ভারতে আসছেন অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে এবার ভারতে আসছেন অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং। সোমবার তাঁর ভারত সফরের সূচি রয়েছে। মূলত কোয়াডভুক্ত দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতেই তাঁর এই সফর। মঙ্গলবার ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠক।

বর্তমানে কোয়াড জোটের চেয়ারম্যান দেশের দায়িত্বে রয়েছে ভারত। সেই কারণেই এবারের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করছে নয়াদিল্লি। বৈঠকে অংশ নেবেন অস্ট্রেলিয়া, ভারত, আমেরিকা এবং জাপানের প্রতিনিধিরা। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে কোয়াডের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়েছে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে এই জোটকে আরও সক্রিয় করতে চাইছে সদস্য দেশগুলি।

অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পেনি ওং বলেন, “এই অনিশ্চিত সময়ের মধ্যে কোয়াড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশীদারিত্ব। চারটি দেশ একসঙ্গে কাজ করছে, যাতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধুমাত্র কূটনৈতিক সহযোগিতাই নয়, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়াতে চাইছে কোয়াড দেশগুলি।


এই বৈঠকে মূলত সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ বা ক্রিটিক্যাল মিনারেলস, সাপ্লাই চেন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি, সেমিকন্ডাক্টর এবং নবীকরণযোগ্য শক্তি শিল্পে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের জোগান নিশ্চিত করা এখন বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই ক্রিটিক্যাল মিনারেলস নিয়ে যৌথ কৌশল গঠনের ওপর জোর দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়াও দক্ষিণ চীন সাগর এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়টিও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত চাপ এবং শক্তির প্রতিযোগিতার আবহে কোয়াডভুক্ত দেশগুলি নিজেদের সমন্বয় আরও বাড়াতে চাইছে।

কূটনৈতিক সূত্রের মতে, ভারতের কাছে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একদিকে যেমন ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজের প্রভাব আরও বাড়াতে চাইছে, অন্যদিকে তেমনি বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখার দিকেও জোর দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোয়াড এখন শুধুমাত্র একটি কৌশলগত জোট নয়, বরং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠছে। তাই এবারের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।