হরমুজ প্রণালীতে কুয়েতের পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা। ওই ট্যাঙ্কারে মিসাইল আছড়ে পড়ে। সেই সময়ে ট্যাঙ্কারে থাকা ৫ ভারতীয় নাগরিককে নিরাপদে তীরে সরিয়ে আনা হয়। ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের তরফে এই তথ্য জানানো হয়েছে। উদ্ধারকাজে সহযোগিতার জন্য ওমানি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে জানানো হয়, কুয়েতের পতাকাবাহী এমটি কাজিমা ৩ (MT Kazimah III) নামের ট্যাঙ্কারটিতে ছিলেন পাঁচ জন ভারতীয়। হরমুজ প্রণালীতে থাকাকালীন জাহাজটি মিসাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজে থাকা পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসা হয়। উদ্ধারকাজে সহযোগিতার জন্য ওমানের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।
এমটি কাজিমা ৩ একটি ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার। কুয়েতের পতাকাবাহী জাহাজটি টোগোর লোমে বন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। এই গটনার পর পারস্য উপসাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয় নাবিকদের পরিস্থিতির উপরে নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে ৪ হাজার ৫০০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ভারতের পতাকাবাহী ছয়টি ও বিদেশি পতাকাবাহী আরও ছয়টি জাহাজ রয়েছে। যেগুলি প্রায় ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। জয়সওয়াল জানান, নৌপরিবহণ মন্ত্রক ভারতীয় দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জাহাজগুলির গতিবিধি ও নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নজর রাখছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির আবহেই এই ঘটনা ঘটেছে। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখার সময় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের উপর হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।