শান্তির দাবিতে মিছিল চলছিল। মুহূর্তের মধ্যে সেই মিছিলই পরিণত হল রক্তাক্ত মৃত্যুমিছিলে। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াট জেলার কাবাল এলাকায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১৯ জনের। আহত হয়েছেন ৫৫ জনেরও বেশি। মৃতদের মধ্যে ৬ থেকে ৭ জন পুলিশকর্মী রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। বহু আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রবিবার বিকেলে কাবাল পুলিশ স্টেশনের সামনে ‘সোয়াট আমান জিরগা’-র উদ্যোগে সন্ত্রাসবাদবিরোধী শান্তি সমাবেশ ও মিছিল চলছিল। অংশগ্রহণকারীরা এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। সেই সময় এক আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরক ভর্তি জ্যাকেট পরে পুলিশ স্টেশনের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। পুলিশকর্মীরা তাকে গেটে আটকে তল্লাশি করতে গেলে আচমকাই বিস্ফোরণ ঘটায় সে। বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ।
ঘটনাস্থলেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালেও কয়েকজন আহতের মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯-এ পৌঁছেছে। সোয়াট জেলার পুলিশ প্রধান উমর খান জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তাবাহিনী। উদ্ধারকারী দল দ্রুত আহতদের সাইদু শরীফ টিচিং হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে ৮ জন পুলিশকর্মী ও ৪ জন সাধারণ নাগরিক-সহ অন্তত ১২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। দোষীদের খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে সন্দেহের তির তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপির দিকেই। দীর্ঘদিন ধরেই খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সক্রিয় এই জঙ্গি সংগঠন। পাকিস্তানি সেনা ও পুলিশের সঙ্গে প্রায়শই তাদের সংঘর্ষ হয়। যদিও এই হামলার সঙ্গে টিটিপি-র সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করেনি প্রশাসন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখোয়ায় একের পর এক জঙ্গি হামলা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। রবিবারই পেশোয়ারের কাছে একটি টোল প্লাজার সামনে আইইডি বিস্ফোরণে ২ জন পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়। তার কয়েকদিন আগেই হাঙ্গু জেলায় একটি পুলিশচৌকিতে হামলায় নিহত হন ৯ জন পুলিশ সদস্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাসে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অনেক অবনতি হয়েছে। সেই কারণেই শান্তির দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই শান্তি মিছিলই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার নিশানা হয়ে উঠল। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি কার্যকলাপ যে এখনও বড়সড় নিরাপত্ত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই হামলা ফের তা স্পষ্ট করল।