যুদ্ধের সবচেয়ে নির্মম ছবি, খামেনির শেষকৃত্যে তাঁর ১৪ মাসের নাতনির ছোট্ট কফিন

Photo: ANI

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় হাজার হাজার মানুষের ভিড়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ্ আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। জাতীয় পতাকায় মোড়া তাঁর বিশাল কফিন ঘিরে শোকস্তব্ধ পরিবেশ। কিন্তু সেই দৃশ্যের মধ্যেও উপস্থিত মানুষদের চোখ বারবার আটকে যাচ্ছিল আরেকটি কফিনে। আকারে অনেক ছোট সেই কফিনে শায়িত ছিল খামেনির ১৪ মাসের নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি। মুহূর্তের মধ্যে সেই ছোট্ট কফিন যেন পুরো অনুষ্ঠানের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক প্রতীক হয়ে ওঠে।

সবুজ, সাদা আর লাল রঙের ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়া বিশাল কফিন আলী খামেনির। খামেনির কফিনের উপরে রাখা তাঁর কালো পাগড়ি। তাঁর কফিনের পাশেই রাখা আরেকটি ছোট্ট কফিন। খামেনির ১৪ মাস বয়সের নাতনির কফিনটি ছিল এই শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানের মর্মস্পর্শী একটি দৃশ্য। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর মুহূর্তেই ইজরায়েলের বিমান হামলায় নিহত খামেনির পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের মধ্যে ছিল এই শিশুটিও। তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই গোটা ইরানে শোকের আবহ আরও গভীর হয়ে ওঠে। একজন রাজনৈতিক নেতা বা রাষ্ট্রপ্রধানের মৃত্যু যত না মানুষের মনে দাগ কাটে, একটি নিষ্পাপ শিশুর অকাল মৃত্যু তার থেকেও বেশি নাড়িয়ে দেয় মানুষের মনকে। তেহরানের শেষ বিদায়ের এই অনুষ্ঠানে সেই অনুভূতিই যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সেই ছোট্ট শিশুর কফিনের সামনে মাথা নত হয়ে যায় সকলের। যুদ্ধের ভয়াবহতার ফল যে কত কঠিন ও ভারী হতে পারে তার প্রমাণ এই শিশুর কফিনটি। এই অনুষ্ঠানে খামেনির জামাতা, তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির স্ত্রীকেও সম্মানিত করা হয়।


শনিবার সকালে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয় গ্র্যান্ড মোসাল্লার দরজা। লাল পতাকা হাতে সেখানে প্রবেশ করেন হাজার হাজার মানুষ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা। কেউ জাতীয় পতাকা নিয়ে তো কেউ কোরান পাঠে ব্যস্ত। অনেকেই নীরবে চোখের জল ফেলেছেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হলেও অনুষ্ঠানজুড়ে বারবার ফিরে এসেছে প্রতিশোধের বার্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দেয় তেহরান। ইরানের সামরিক নেতৃত্বও জানিয়ে দেয়, এই হামলার জবাব দেওয়া হবে। সংঘর্ষ এখানেই শেষ নয়।

তেহরানের সেই সকাল তাই শুধু একজন শীর্ষ নেতার বিদায়ের সাক্ষী হয়ে থাকেনি। ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে ছোট্ট এই কফিনটিও। যা অনেককেই মনে করিয়ে দিয়েছে যুদ্ধের সবচেয়ে ভারী মূল্য চোকাতে হয় নিরপরাধ শিশুদেরই।