বাংলাদেশে ফের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জনবহুল এলাকায় পিটিয়ে খুন করা হল এক হোটেলমালিককে। মৃতের নাম লিটনচন্দ্র ঘোষ ওরফে কালী। তাঁর বয়স ৫৫-র কাছাকাছি। স্থানীয় সূত্রে ও বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গিয়েছে, লিটন ঘোষের কালীগঞ্জের বরাহনগর এলাকায় একটি মিষ্টির দোকান ও হোটেল ছিল। শনিবার সকালে হোটেলের সামনে হঠাত ঝামেলা বাধে। সেই ঝামেলা থামাতে এগিয়ে গেলে কয়েকজন লিটনের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে তাঁকে চড়-ঘুঁসি মারা হয়, পরে বেলচা দিয়ে লিটন ঘোষের মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় স্বপন মিঞা, তাঁর স্ত্রী মাজেদা খাতুন এবং ছেলে মাসুম মিঞাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, স্বপনের কলার ব্যবসা রয়েছে। সম্প্রতি তাঁর কলাবাগান থেকে কিছু কলা চুরি যাওয়ার অভিযোগ ছিল। স্বপনের দাবি, সেই চুরি যাওয়া কলা তিনি লিটনের হোটেলে দেখতে পান। সেই নিয়েই শনিবার সকালে হোটেলের এক কর্মীর সঙ্গে তাঁর ঝামেলা শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে হোটেলমালিক লিটন এগিয়ে এলে তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যেই লিটনের দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য ভবনের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক জানিয়েছেন, লিটনকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।প্রসঙ্গত, শুক্রবার ভোরে বাংলাদেশের রাজবাড়ি সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে রিপন সাহা নামে এক পেট্রলপাম্প কর্মীকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুটি খুনের ঘটনা ঘটে যাওয়ায় বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।
বাংলাদেশে হিন্দু তথা সংখ্যালঘু নিধনের একের পর এক যে ঘটনা ঘটে চলেছে, তাতে এই খুন নয়া সংযোজন বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে শনিবারের ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনও কারণ জড়িত কিনা তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।